নিম্নমানের কাঁচামালে খসে যাচ্ছে নির্মাণাধীন বিদ্যালয়ের পলেস্তারা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের পিলারগুলো নখের আঁচড়ে ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে তিনটি পিলারের রড বের হয়ে গেছে। সোমবার (১৯ জুন) বিকালে ভবনের একটি পিলার বাঁকা হয়ে গেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। 

এদিকে মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে নিম্নমানের হওয়ায় ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুল করিম। এ সময় উপজেলা এলজিইডি অফিসের সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। 

জানা যায়, উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি চার তলা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কাজ আসে। ৯৯ লাখ টাকায় দুই তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি পায় জয়নাল আবেদীন বাদলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হৃদয় এন্টারপ্রাইজ। তার কাছ থেকে কাজ কিনে নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে তাওহীদ এন্টারপ্রাইজের আহসান হাবীব। ফুলবাড়ীয়া এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলী প্রণব সরকার ও উপসহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার তদারকি করেন। 

ছবি: ইত্তেফাক

রফিকুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, নিচতলার পিলারের কাজ করার সময় জমাট সিমেন্ট দিয়ে কাজ করার সময় এলাকাবাসী বাধা দেয়। প্রণব সরকার এলাকাবাসীর বাধার কথা না শুনে জমাট বাধা সিমেন্ট দিয়ে পিলারগুলো ঢালাইয়ের কাজ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে চাইলে প্রণব আমাদের হুমকি দেন ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাবে। আমরা ভয়ে কেউ আর প্রতিবাদ করি নাই। 

বিদ্যালয়ের কর্মচারী আ. জলিল বলেন, প্রধান শিক্ষক রাবেয়া আকতার ভবনের একটি পিলার বাঁকা দেখতে পান। পরে জড়ো হওয়া মানুষ হাত দিয়ে পাথর সিমেন্ট সরিয়ে রড বের করে ফেলেন পিলারের। মানুষের নখের আঁচড়ে পিলারটি ভেঙে যায়। এরই মধ্যে ঠিকাদার আহসান হাবীব ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে। 

উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব মোর্শেদ বলেন, ঠিকাদার এরই মধ্যে একটি বিলে ২৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। অপর একটি বিল নেওয়ার চেষ্টা করার সময় ভবনটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠায় আর বিল দেওয়া হয়নি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুল করিম বলেন, ২৪টি পিলারের মধ্যে ৭ টি পিলার নিম্নমানের মালামাল দিয়ে করা হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি পিলার একদম নিম্নমানের। এলজিইডিকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় ভবন নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধসে পরে যাতে ক্ষয়ক্ষতি না হয় তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর গ্রহণ করা হবে।