চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে এবার ২০ হাজার কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ সূত্র এবং হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া এ তথ্য জানিয়ে বলেন, হালদা নদীর নাপিতের ঘাট, আজিম্যারঘাট, মাছুয়াঘোনা, পুরালি স্লুইস গেট, নোয়াহাট, গড়দুয়াড়া ছিল মাছের ডিম ছাড়ার কেন্দ্র। গত সোমবার সকাল পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করেছেন স্থানীয়রা। এই মৌসুমে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কেজি। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত কুয়া না থাকায় রেণু উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে প্রচুর ডিম নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, গত রবিবার রাত থেকে হালদায় ডিম ছাড়তে শুরু করে কার্প জাতীয় মা মাছ। হালদা তীরবর্তী রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী সারা রাত ডিম সংগ্রহ করে নিকটবর্তী হ্যাচারিতে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে সরকারি হ্যাচারি মাছুয়াঘোনায় ৫০টি কুয়ায় ৪০ কেজি করে ২ হাজার কেজি, শাহমাদারীতে ৪৫টি কুয়ায় ১ হাজার ৮০০ কেজি, মদুনাঘাটে ৩০টি কুয়ায় ১ হাজার ২০০ কেজি ডিম সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া রাউজান উপজেলার মোবারকখীল হ্যাচারির ১৬ কুয়ায় সংরক্ষণ করা যায় ১ হাজার ১৭০ কেজি ডিম। এর বাইরে বেরসকারি একটি সংস্থার ইট-সিমেন্ট নির্মিত কুয়া রয়েছে ৩০টি।
ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, এবছর রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা মাছ। ডিমের কারণে পুরো নদীতে ফেনার মতো সৃষ্টি হয়েছে। নৌকা-বাঁশের ভেলায় ডিম লেগেছিল। কিন্তু এত ডিম সংরক্ষণের কুয়া না থাকায় বিপাকে পড়েন সংগ্রহকারীরা। তারা ডিম সংগ্রহ না করেই নদী থেকে উঠে পড়েন। ডিম সংগ্রহকারীরা বলেন, এত ডিম পাওয়া গেছে যা অকল্পনীয়। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত কুয়া নেই। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় ডিম বেশি পাওয়া গেছে যা হ্যাচারিগুলোর ধারণাক্ষমতার অতিরিক্ত। রেণু উৎপাদনের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ডিম নষ্ট হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কুয়ার সংখ্যা বাড়াতে হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী সাংবাদিকদের বলেন, সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সব ডিম সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।