আবেগ আপ্লুত তারিক কাজী

নিজের ঘাড়ে তুলে নিলেন দোষ

একটা ভুলে সর্বনাশ হয়েছে। ডিফেন্ডার তারিক কাজীর এক সেকেন্ডের ভুলে বাংলাদেশ ম্যাচে গোল হজম করে। ৮০ মিনিট ম্যাচ ধরে রেখেও সেই ম্যাচে হারতে হয়েছে। লেবাননকে বাগে পেয়েও হাত ফসকে গেছে। বাংলাদেশের ফুটবলাররা আফসোসে পুড়ছেন। অথচ লেবানীজ গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি স্ট্রাইকার ফাহিম। এসব নিয়ে অনেক কথা টিম বাংলাদেশের ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চলছে আলোচনা-সমালোচনার পালা। দোষ দেওয়া হচ্ছে তারিক কাজীকে। এই ডিফেন্ডারের ক্ষমার অযোগ্য ভুলে বাংলাদেশ পুড়ে গেছে। এক হজম না করতেই দ্বিতীয় গোল হজম, এভাবে পুড়ে ছারখার হবে সেটা যেন কেউ কল্পনা করেনি। বিশেষ করে যদি খেলার ৮০ মিনিট পর্যন্ত হিসাব করা হয়। 

গতকাল সাফের কোনো খেলা ছিল না। কঠিন ম্যাচ খেলেও বাংলাদেশ দল অনুশীলন করল বাইচুং ভুটিয়া ফুটবল একাডেমির টার্ফের মাঠে। অনুশীলনে নামার আগে টিম মিটিং হয়েছে। সব ভুলে সবাইকে গা ঝাড়া দিয়ে মাঠে নামার কথা বলা হলে ডিফেন্ডার তারিক কাজী নিজে থেকে উঠে দাঁড়ান। তিনি বলেছেন, ‘আমার একটা কথা আছে। আমার এক সেকেন্ডের ভুলে গোল খেয়েছি আমরা। ঐ গোলটা না হলে হয়তো ম্যাচটা অত দূর যেত না। আমরা ভালো খেলেছি। তার পরও হেরেছি। আমার ভুলের জন্য আমি অনুতপ্ত। এই ভুল আর হবে না।’ তারিক কাজী বলেছেন মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলা আছে। আমাদের জন্য ডু অর ডাই ম্যাচ। আমি নিজেকে প্রমাণ করে দিব। ভুলের মাশুল দিয়ে খেলে প্রমাণ করব।’ তারিক কাজীর এসব আবেগঘন কথায় দলের কোচ কর্মকর্তা এবং খেলোয়াড়রা সান্ত্বনা দিয়েছেন বলে বেঙ্গালুরু হতে জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার আমের খান। সবাই তারিক কাজীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন দোষ হলো সবার। ভালো হলেও সবার। তারিক কাজী বলেছেন আর ভুল হবে না।’

তারিক কাজী ফিনল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার। বাংলাদেশি বংশদ্ভুত ফুটবলার। ওখানেই জন্ম এবং বেড়ে উঠা। বাংলাদেশের লালসবুজ জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। ক্লাব ফুটবলে এখন বসুন্ধরা কিংসে খেলছেন। এই তারিক কাজী ফিনল্যান্ডের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব—১৭, ১৮ এবং ১৯ দলে খেলেছেন। খুবই ভদ্র এবং অমায়িক ছেলে। নিজের ভুলে দল হেরেছে। সেই কথা নিজেই আগ বাড়িয়ে টিম মিটিংয়ে বলে অনুতপ্ত হয়েছেন। এটা বিরল।