নার্সিং কাউন্সিলের রাশিদা আক্তারের নিয়োগ অবৈধ

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার বর্তমানে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বরত রাশিদা আক্তারের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মাহমুদুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বুধবার (২১ জুন) এ রায় দেন।

১৯৮৩ সালের অর্ডিন্যান্স এবং পরবর্তীতে কোন রুলস অথবা গেজেট দ্বারা এবং সর্বশেষ প্রণীত বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন ২০১৬ তেও ডেপুটি রেজিস্টার পদ নাই। মাননীয় কোর্ট অত্র বিষয়টি আমলে নিয়ে এ রায় দেন।

বাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মো. ইমাম হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. সেলিম হাসান প্রধান। আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার (২২ জুন) রায়ের বিষয়টি উপস্থিত সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

তারা বলেন, রাশিদা আক্তারের যোগদানের সময় জাতীয় পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। ওই চাকরির জন্য যে ১৫ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল, তা তার ছিল না।

গত ৮ মার্চ কেন তার নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে করে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ শুনানির পর বিবাদীরা তাদের পক্ষে যুক্তি, তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় হাইকোর্ট ওই রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। আইনজীবী জানান, পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হলে রায়ের বিস্তারিত জানা যাবে।

আইনজীবীরা আরও জানান, ১৯৮৩ সালের অর্ডিন্যান্স এবং পরবর্তীতে কোনো রুলস অথবা গেজেট দ্বারা এবং সর্বশেষ প্রণীত বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন ২০১৬ অনুযায়ীও ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদ নেই। মাননীয় আদালত এ বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তারকে নিয়ে কাউন্সিলে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তার নিয়োগের পর থেকেই ভেঙে পড়েছে কাউন্সিলের শৃঙ্খলা। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বেসরকারি নার্সিং কলেজের অনুমোদনের নামে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়ে ১৫-২০ লাখ টাকা করে আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, রাশিদা আক্তারকে ২০১৬ সালে যখন ডেপুটি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চারটি মামলা ছিল। এসব মামলার তথ্য গোপন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি