নারায়ণগঞ্জে তিন মাসে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১৯০৪

নারায়ণগঞ্জে গত তিন মাসে ১ হাজার ৯০৪ জন যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত রয়েছে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এই জেলায় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও বেশি। অতিরিক্ত ঝুঁকিতে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মানুষ। যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিয়ম সভায় এই সব তথ্য তুলে ধরা হয়।

মতবিনিময় সভাটির আয়োজন করে জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। সভায় জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জে মোট জনসংখ্যা ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ জন। নারায়ণগঞ্জে বছরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় ৫ হাজার রোগী। অথচ গত তিন মাসে জেলায় ১ হাজার ৯০৪ জন যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আড়াইহাজারে আক্রান্ত রয়েছে ২৫১, বন্দরে ১২৪, সদর উপজেলায় ৬৭৭, রূপগঞ্জে ৩৩৯ ও সোনারগাঁয়ে ৩১৯ জন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোতে ৫৯ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোতে ১৩৫ জন আক্রান্ত রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের ৯৭ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে আর মারা গেছে ২ শতাংশের বেশি।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পলি ক্লিনিকের সম্মেলন কক্ষে  গতকাল রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা হয়। নাটাবের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. শাহ নেওয়াজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (নাটাব) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন, ডা. সামিয়া মোশারফ হোসেন, ব্র্যাকের নারায়ণগঞ্জ জেলার এরিয়া সুপারভাইজার মাসুমা আখতার প্রমুখ। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান জানান, যক্ষ্মা বা টিবি একটি বায়ুবাহিত ছোঁয়াচে রোগ। এ রোগ সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়ায় এবং দেহে প্রবেশ করে প্রথমে ফুসফুসে আশ্রয় নেয়। যক্ষ্মায় আক্রান্ত সব রোগীর কাছ থেকেই কিন্তু যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ায় না। যাদের থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তাদের হাঁচি-কাশি, এমনকি কথা বলার সময়ও বাতাসে যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ায়। এ জীবাণু বেশ কয়েক ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় সুস্থ ব্যক্তির ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে বাতাসে ভেসে থাকা এ জীবাণু। এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। প্রতি একজন রোগী পরিবার, স্বজন ও আশপাশের অন্তত ১০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সারা দেশে গড়ে ১ বর্গ কিলোমিটারে ১ হাজার ২৮০ জন মানুষ বসবাস করলেও নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে ৫ হাজার ৭৮০ জন। এ জেলায় মানুষের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও বেশি। তাই নারায়ণগঞ্জের মানুষের যক্ষ্মা বিষয়ে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। 

তিনি আরো বলেন, বিশ্বে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্তের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ভারতে। তাই বাংলাদেশকে শতভাগ যক্ষ্মা রোগ থেকে মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার। যক্ষ্মা রোগের পরীক্ষা ও চিকিত্সা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহ, কারখানাগুলোতে বিনামূল্যে যক্ষ্মার পরীক্ষা ও যক্ষ্মা রোগীদের চিকিত্সা প্রদান করা হয়। সভায় নারায়ণগঞ্জে কর্মরত প্রায় ৩৫ জন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।