গরুর দাম নিয়ে হতাশ বিক্রেতারা, ক্রেতারা বলছেন দাম বেশি

কোরবানির ঈদের বাকি আর তিন দিন। এরই মধ্যে জমতে শুরু করেছে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত পশু উঠলেও ক্রেতাদের অভিযোগ বিক্রেতারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কোরবানি পশুর দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন। তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ, গো খাদ্যে ও পরিবহন ভাড়াসহ সবকিছুরই দাম বেশি তাই গরুর দাম বেশি হাঁকাতে হচ্ছে।  

রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া (স্থায়ী), শনির আখড়া, আমুলিয়া মডেল টাউন, মেরাদিয়া, কমলাপুর, লালবাগ, ধোলাইখাল, পোস্তগোলা, আফতাব নগর, ভাটারা সাঈদ নগর, মোহাম্মদপুরের বছিলা, দক্ষিণখানের কাওলা, খিলক্ষেতের খাঁপাড়া, মিরপুর ৬ নম্বর, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও গাবতলী (স্থায়ী) পশুর হাট ঘুরে দেখা দেখা গেছে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশু হাটে উঠেছে। বড় সাইজের গরু যেমন আছে, তেমনি ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুতে ভরপুর হাট। যদিও ক্রেতাদের আকর্ষণ ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু।

সারুলিয়া পশুর হাটে কোরবানি গরু কিনতে আসা জহিরুল ইসলাম ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘এই হাটে গরুর সরবারহ বেশি কিন্তু গরু ব্যাপারিরা গরুর দাম চাচ্ছে বেশি। এখন পছন্দ অনুযায়ী গরু কিনতে পারব কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

কমলাপুর হাট। ছবি: ফোকাস বাংলা

সারুলিয়া হাটে গরুর দাম বেশির কারণ কী তা জানতে চাইলে গরু বিক্রেতা লাবু মিয়া ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জ থেকে ১০টি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছি। আমার সব গরু বাড়িতে পোষা। গো খাদ্যে ও পরিবহন ভাড়াসহ সবকিছুরই দাম বেশি তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।’ 

কমলাপুর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা সুজন মিয়া ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আমি পাবনা থেকে ১৫ গরু নিয়ে এসেছি হাটে এর মধ্যে পাঁচটি বিক্রি করেছি। হাটে গত বছরের তুলনায় ক্রেতা কম আর তারা গরুর দাম বলছে কম। তারা কেন বোঝে না সব কিছুর দাম বাড়ছে তাহলে গরুর দাম কেন বাড়বে না। আমরাতো আর লস দিয়ে গরু বিক্রি করব না।’

আমুলিয়া মডেল টাউন হাট। ছবি: ফোকাস বাংলা

কমলাপুর পশুর হাটে গরু কিনতে আসা সিরাজ হক দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আমার প্রতি বছর তিন জন মিলে গরু কোরবানি দেই। তবে এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি তাই পাঁচজন মিলে কোরবানি দেবো। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিজনের ভাগে সাত-দশ হাজার টাকা বাড়তি যোগ করতে হচ্ছে।’

আফতাব নগর হাটে গরু কিনতে আসা আবু রায়হান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় অনেক পশু তবে গরুর দাম বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন। অনেকক্ষণ ধরে বাজারে ঘুরছি এখনো গরু কিনতে পারিনি দাম অনুযায়ী প্রত্যাশা অনুযায়ী গরু পাচ্ছি না।’

এই হাটে গরু কিনতে আসা আনিসুর রহমান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় গরুর দাম অনেকে বেশি। আমিও আরও দুয়েকটা হাট দেখে যাচাই করে এই হাট হতে গরু কিনে ফেললাম, তবে গতবার এই গরু কিনেছিলাম ৯০ হাজার হাজার টাকায় এবার তা কিনেছি ১ লাখ ৩০ হাজারে।’ 

আফতাব নগর হাট। ছবি: ফোকাস বাংলা

গাবতলী কোরবানির পশুর হাটে র‌্যাবের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘কোরবানির হাটে অনেক পশু বেচাকেনা হয়, এই বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম উপায়ে রাসায়নিক দ্রব্য খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করে অথবা অস্বাস্থ্যকর গবাদি পশু বিক্রি করে। এসবের বিরুদ্ধে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়, ভেটেনারি ডাক্তারের সমন্বয়ে র‌্যাব একটি টিম গঠন করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। বিভিন্ন হাটে এ টিম পর্যবেক্ষণে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন আরও বলেন, ‘কোরবানির হাটগুলোতে হাসিল ঘর রয়েছে। অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন, অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ এসেছে। হাটগুলোতে আমাদের মোবাইল টিম কাজ করছে। অতিরিক্ত হাসিল গ্রহণ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা কোরবানির হাটকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

উল্লেখ্য, এবার ঈদুল আজহায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার স্থায়ী হাটসহ মোট ২০টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পশুর হাট বসছে ১০টি স্থানে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাট বসছে ১০টি স্থানে।