মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থানে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট। তবে বড় বড় হাটের চেয়ে ছোট ছোট হাটে হাট-বাজারগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পড়া ভিড় বেশি। হাটে পশুর আমদানি বাড়লেও গত বছরের তুলনায় বড় বড় হাটে বেশি দামে গরু-ছাগল কিনে কিছুটা হতাশ ক্রেতারা। বাজারে ছোট ও মাঝারি সাইজের সব ধরণের পশু বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
জানা গেছে, এ বছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দেড় শতাধিক স্থানে পশুর হাট বসেছে। কয়েক দিন আগে প্রখর রোদ ও গত তিনদিন মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই চলছে বেচাকেনা। বাজারে পশুর সরবরাহ বেশি ও ক্রেতার সংখ্যাও ভালো থাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাটগুলো। সদর উপজেলার চরমুগরিয়া বন্দর, মস্তফাপুর, হাউসদী, মাথাভাঙা, আছমত আলী ব্রিজের নিচে, রাজারহাট, নতুন রাজারহাট, মাদ্রা, মঠের বাজার, খোয়াজপুর, কবিরাজপুর, রাজৈর, টেকেরহাট বন্দর, টেকেরহাট, হোসেনপুর, মাদেন্দ্রী, পাইকপাড়া, আমগ্রাম, কালকিনি, খাসেরহাট, ফাসিয়াতলা, রাজারহাট, খালেকের হাট, ডাসার, গোপালপুর, ভূরঘাটা, শিবচর, উৎরাইল, সূর্যনগর, কাদিরপুর, নিলখী, কাঁঠালবাড়ি, দাদা ভাই উপ-শহর, দত্তপাড়াসহ মাদারীপুরে ছোট-বড় মিলে দেড় শতাধিক পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে কিছু হাটে সারা বছর পশু বিক্রি হয়। কিছু হাট অস্থায়ীভাবে বসেছে।
মাদারীপুর জেলা সদরের মাদ্রা গ্রামের ছান্টু হাওলাদার বলেন, গেল দুই-তিন দিনের হাটের চেয়ে মঙ্গলবার নতুন রাজারহাটে গরুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এতে ক্রেতারা খুশি না হলেও খামারি ও বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। শনিবার যে গরুর দাম ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা ছিল, আজ সেই ধরণের গরু ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা পশুকে খাওয়ানো ও রাখার বিষয়টি ঝামেলা মনে করে শেষ দিকে গরু ক্রয় করছেন। তাই এখন ক্রেতার সংখ্যাও বেশি।’
একই গ্রামের খামারি তৈয়ব হাওলাদার বলেন, গত দুই বছর ধরে চলা করোনা পরিস্থিতি মানুষকে আর্থিক সংকটে ফেলেছে। গত বছর ১০টি গরু বিক্রি করেছি, আজ মাত্র ৬টি বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য বছরগুলোতে যে সকল গেরস্থ একটি পশু নিজেরাই কোরবানি দিতেন; এবার তারা ভাগে কোরবানি দিচ্ছেন। প্রথম দিকে গরুর বাজার দেখে হতাশ হয়েছিলাম। শেষ মুহূর্তে বাজার কিছুটা ভালো, তবে গত বছরের তুলনায় বিক্রি কম।’
মাদারীপুর পৌর শহরের এডভোকেট আবুল হাসান সোহেল বলেন, এ বছর গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে গরুর সরবরাহও যেমন বেশি, তেমনি দামও বেশি।
খোয়াজপুর টেকেরহাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশি গরুতে বাজার সয়লাব। বিক্রেতারা বড় গরুর দাম হাঁকছেন এক থেকে তিন লাখ টাকা। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় মিলছে গরু। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যাও। বেচাকেনাও হচ্ছে বেশ।
মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বছর ঈদে জেলায় ৬৮ হাজার ৫২০টি গরু রাখা হয়েছে। খামারি রয়েছেন ১৯ হাজার ৫২০ জন। ছাগলের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৫টি। গত বছর পশুর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। এ বছর চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত গরু রয়েছে ৬ হাজার ২৫০টি। কোরবানির জন্য ক্রেতারা যাতে সুস্থ সবল পশু পেতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আগে থেকেই খামারিদের
পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।