রাজশাহীতে আগুনে মা ও ছেলের মৃত্যু, আরেক ছেলে মুমূর্ষু

রাজশাহীর বাগমারায় তিনতলা বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডে এক স্কুলশিক্ষিকা ও তার এক ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে আরেক ছেলে মারাত্বকভাবে অগ্নিদ্বগ্ধ হয়েছেন। আগুন থেকে বাঁচতে তিনতলা থেকে লাফ দিয়ে শিক্ষিকার দুই ছেলে প্রথমে মারাত্বকভাবে আহত হয়। এবং আগুনে ঘটনাস্থলেই মায়ের মৃত্যু হয়। 

শুক্রবার (৩০ জুন) ভোরে উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের মাদারীগঞ্জ বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত দুই ভাইকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষিকার ছোট ছেলে রাফিউল বাশারের মৃত্যু হয়। 

স্কুলশিক্ষিকার নাম ফরিদা ইয়াসমিন (৪৫)। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শিবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বাগমারার হাসনিপুর গ্রামের এজাজুল বাশার ওরফে স্বপনের স্ত্রী। তাদের আহত দুই সন্তান হলেন রাশেদুল বাশার (২৫) ও রাফিউল বাশার (১৮)। রাফিউলের শরীরের ৫০ শতাংশ ও রাশেদুলের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। রাশেদুল একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং রাফিউল উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্বজনেরা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিনতলার একটি কক্ষে স্কুলশিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের পোড়া লাশ পান।

জানা গেছে, তিনতলা ভবনটি একসময় ছিল আশা সিনেমা হল। সিনেমা হলটি বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী এজাজুল বাশার তা কিনে নেন। সিনেমা হলের তিনতলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন। সেখানে কয়েকজন ভাড়াটেও ছিলেন। তবে ঈদের কারণে ভড়াটেরা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ভবনের অধিকাংশ স্থান বিভিন্ন পণ্যের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অগ্নিকাণ্ডের সময় এজাজুল বাসায় ছিলেন না। তিনি একই এলাকার হাসনিপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে তিনতলার বাসায় ঘুমিয়ে পড়েন স্কুলশিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন। ভোরে বাসার দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে ও আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না লোকজন। পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে বাগমারা ও পাশ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলার দুটি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টা টেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।

বাগমারা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। 

বাগমারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, দুইতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। সেখানে রান্নার ব্যবস্থা ছিল। চুলার আগুন থেকেই মূলত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।