'টাইটান' নিয়ে 'টাইটানিক' নির্মাতার মন্তব্য

ডুবোজাহাজ টাইটানের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় গোটা বিশ্ব। নানা জায়গায় নানা মত পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি টাইটানিকের নির্মাতা জেমস ক্যামেরন জানালেন তিনি আগেই আন্দাজ করেছিলেন টাইটানের পরিণতি কি হতে পারে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলছেন যে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। 

১৯৩৩ সালে টাইটানিক ছবি নির্মাণের আগে ঘটনাস্থলে ক্যামেরনকে ৩৩ বার যেতে হয়েছে। ১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া এই জাহাজ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় তাকে কিছুটা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। যেদিন টাইটান ডুবে যায় সেদিন তিনি একটি জাহাজে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাই সঙ্গে সঙ্গেই জানতে পারেননি। যখন জানতে পারেন যে ডুবোযানটি একই সময়ে তার নেভিগেশন ও যোগাযোগ দুটোই হারিয়ে ফেলেছে, তখনই তিনি তাৎক্ষনিকভাবে একটি বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছিলেন। 'আমি বুঝতে পারছিলাম কী হয়েছে। ডুবোযানটির ইলেকট্রনিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, একই সঙ্গে এর ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডারও অকেজো হয়ে গেছে, তখনই বুঝেছি- এটা শেষ।' 

titan

তিনি আরও বলেন, 'এ ধরনের ডুবোযানের বিষয়ে যার কাজ করেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আমি সাথে সাথেই ফোনে যোগাযোগ করি। এক ঘণ্টার মধ্যেই আমি কিছু তথ্য পেয়ে যাই- তারা পানির নিচে অবতরণ করছে। ৩,৫০০ মিটার গভীরে। তারা যাচ্ছিল ৩,৮০০ মিটার নিচে সমুদ্রের তলদেশের দিকে। যখন শুনলাম টাইটানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নেভিগেশন বারেও আর ডুবোজাহাজটিকে দেখা যাচ্ছে না তখনই চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছি। প্রচন্ড শক্তিজনিত বিপর্যয় না ঘটলে যোগাযোগ ও নেভিগেশন একই সময়ে হারায় না।' 

উল্লেখ্য, ২৫ জুন নিখোঁজ হয়ে যাওয়া টাইটানের পাঁচজন আরোহীই মারা গেছেন। ডুবোযানটি 'বিপর্যয়কর ইমপ্লোশন' এর শিকার হয়েছিল বলে আমেরিকান কোস্ট গার্ড ধারণা করছেন।