চলমান দলীয় কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘোড়িয়া) আসনে বিজয়ী হতে চায় ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ। শনিবার ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে ভূমিমন্ত্রী ও পৌর মেয়র ঐক্যের এই বার্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এসময় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, ঈশ্বরদীর আওয়ামী লীগ লৌহ দৃঢ়তায় ঐক্যবদ্ধ। নৌকা মার্কার বিজয়ের লক্ষ্যে সকল দ্বন্দ্ব-কলহ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে নামার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী মালিথা।
দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এবং মেয়র আবুল কালাম আজাদের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হলে এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এই বিভক্তির কারণে সৃষ্ট কয়েকটি ঘটনায় উভয় গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা ও সংঘাত হয়। অনৈক্যের সুযোগেই এবারে এই আসনে ১৪ জন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র জেলা কমিটির সভাপতি ও ভূমিমন্ত্রীকে একক মনোনয়ন দেওয়া হয়।
শেষদিনে সকল মান-অভিমান ভুলে ভূমিমন্ত্রী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়ন জমাদানকালে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান বিশ্বাস, অধ্যাপক আকরাম হোসেন, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরুসহ অন্যান্যদের উপস্থিতি বিভক্তির দৃশ্যপট পাল্টে যায়। গত কয়েকদিন ধরেই নৌকার প্রচারণার প্রস্তুতির জন্য একের পর এক অনুষ্ঠিত সভায় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বতস্ফূর্ততা পরিলক্ষিত হয়।
এদিকে বিএনপি এই আসনে দুইজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়ায় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপি এখানে কেন্দ্রীয় নেতা ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি প্রদান করে। যে কারণে উভয়েই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সিরাজুল ইসলাম সরদারের মনোনয়ন দাখিলের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি, পৌর কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকসহ পোর্টফলিও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গেও উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ পোর্টফলিও নেতারা ছিলেন। এই দুই নেতাকে নিয়ে ঈশ্বরদীর বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিধাবিভক্ত। একারণে ঈশ্বরদীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘন ঘন মেরুকরণ পরিবর্তনশীল। নেতাকর্মীরা কখনও হাবিবের আবার কখনও সিরাজ সরদারের।
আবার ২০ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতের পক্ষ হতে জেলা নায়েবে আমীর আবু তালেব মণ্ডল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এই আসনে জামায়াতের বেশ কিছু ভোট থাকায় জামায়াত এই আসনে ছাড় দিতে চায় না। এই অবস্থায় ২০ দলীয় জোটের কে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাবেন, আর নেতাকর্মীরা কে কোন অবস্থানে থাকবেন সেটাই দেখার বিষয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ