ঈদের ছবি নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস!

ঈদের ছবি নিয়ে নতুন উচ্ছ্বাস সাম্প্রতিককালের আশা জাগানিয়া বিষয়। সর্বশেষ পরাণ ও হাওয়া ছবির সাফল্যের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল যে এরপরে আর কোনো সিনেমা হিট হলো না কেন? কিন্তু চলচ্চিত্রে এখন ভালো গল্প, চিত্রনাট্য ও কাস্টিংয়ের বাইরেও সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো ছবিটি নিয়ে কৌতুহল কতটুকু তৈরি করতে পারছে। সেই অংকে এবারের ঈদ অনেকখানি সফল।

বলা হচ্ছে এই ধারাবাহিকতায় চলচ্চিত্রের এক দারুণ সময় গুনবে তারকা ও কুশলীরা।

ঈদের সিনেমা দেখার জন্য মাল্টিপ্লেক্স ও প্রেক্ষগৃহে দর্শকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোনো কোনো স্থানে দর্শকের সিনেমার টিকিট না পাওয়ার খবর জানা গেছে। এবার ঈদে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির মিছিলে থাকলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার বেশিরভাগ শো প্রথমদিন থেকে হাউজফুল যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাল্টিপ্লেক্স ও প্রেক্ষাগৃহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এবার ঈদে বড় চমক ছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খান। তার অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় নতুন লুকে ভক্তদের মাঝে ধরা দিয়েছেন তিনি। শাকিব খানকে ছাড়াও ছোটপর্দার সুপারস্টার অভিনেতা আফরান নিশো বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেছেন এবার ঈদে। এছাড়াও বেশ কয়েক বছর পর আবারও বড়পর্দায় ফিরেছেন অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। এবারের ঈদের সিনেমাসহ গত কয়েকটি ঈদের সিনেমায় দর্শক সাড়া দেখে চলচ্চিত্রবোদ্ধারা মনে করছেন এভাবে চলতে থাকলে চলচ্চিত্রের সুদিন আবার ফিরবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি ও বরেণ্য নির্মাতা কাজী হায়াৎ বলেন, বাংলা সিনেমা আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সবসময় বলতাম যে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি। সেটা হচ্ছে। আবারও ভালো ভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করেও সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে আসছেন দর্শক। ভালো গল্পের চলচ্চিত্র তৈরি করলে বৈরী আবহাওয়ায় সিনেমা দেখতে দর্শকরা ভিড় করবে এটা তার প্রমাণ।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, শাকিব তো আবার দেখিয়ে দিলো। তার সিনেমা সেল তো বাড়ছে আর বাড়ছে। ঘটনাটি আসলেই অবিশ্বাস্য। ডিসি ও নরমাল সব আসন পূর্ণ ছিল।

অন্যদিকে, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো প্রথমবার বড়পর্দায় ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। প্রথম সিনেমা দিয়েই বাজিমাত করছেন তিনি। বড়পর্দায় খুব ভালোভাবে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে সিনেমাটি দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। ঈদের তৃতীয় দিন শোর সংখ্যার দিক দিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। চলতি সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন স্টার সিনেপ্লেক্সের সাতটি শাখায় সর্বোচ্চ ৩৩টি প্রদর্শনী চলছে।

সুড়ঙ্গ পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, ভালো গল্পের সিনেমা হলে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসবে। এই বর্ষার দিনেও সিনেমাটি দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো বাংলা সিনেমা নিয়ে চারদিকে আলোচনা হচ্ছে। এটা আমাদের চলচ্চিত্রের জয়।

প্রথমবারের মতো চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ‘লাল শাড়ি’ নামে সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। ঈদে ‘লাল শাড়ি’ ১২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক অভিনয় করেছেন।

‘লাল শাড়ি’র প্রেক্ষাপট আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ঘিরে। বিলুপ্ত প্রায় এ শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রান্তিক মানুষদের জীবনযাপন, সুখ ও দুঃখ এই সিনেমাটির প্রাণ।

অপু বিশ্বাস বলেন, আমার কাছে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল সরকারী অর্থায়নে ছবিটির যেন আমি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করি। কারণ অনেকের কাছেই শুনেছি যে ছবিটি শেষ করতে পারবো না। ছবি প্রযোজনা আমি বুঝি না। কিন্তু এই ছবিটি করতে গিয়ে একটি প্রোডাকশনের নাড়ী নক্ষত্র আমি বুঝেছি। তবে আমি খুব গর্ব করে বলতে পারি, ছবির কারো পারিশ্রমিক আমি বকেয়া রেখে ছবি রিলিজ দিইনি।

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর দ্বিতীয় সিনেমা ‘প্রহেলিকা’। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আট বছর পর বড়পর্দায় দেখা মিলেছে দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের। ‘প্রহেলিকা’য় মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলী। খুব বেশি প্রেক্ষাগৃহ পায়নি ‘প্রহেলিকা’, মাত্র আটটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।

ছবির চিত্রনায়ক মাহমুজ আহমেদ বলেন, আমি ছবিটির যাবতীয় ম্যারিট বুঝেই কাজ শুরু করেছি। এই ছবিটি দেখতে বসে ছবিটি শেষ হওয়া অব্দি দর্শকেরা নানান রহস্য সন্ধানের জন্য কৌতুহলী হয়ে থাকবে। সেকারণে সিনেমা হল থেকে বেরিয়েও দর্শকদের সেরকম মুগ্ধতা দেখতে পাচ্ছি।

তবে গত ঈদের মতোই এবারের ঈদেও বুবলী বনাম বুবলীই। অর্থাৎ বুবলীর একাধিক ছবির রিলিজ পাচ্ছে। শবনম বুবলীর ‘প্রহেলিকা’ ছাড়াও ঈদে আরেকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সেটির নাম ‘ক্যাসিনো’। এ সিনেমার মাধ্যমে শাকিব খান ছাড়া তিনি প্রথম জুটি হয়েছিলেন অভিনেতা নিরবের সঙ্গে। ছবিটির কাজ বুবলী প্রথমে শুরু করলেও রিলিজে দেরি হয়। সিনেমাটি বানিয়েছেন সৈকত নাসির।

ছবিটি প্রসঙ্গে ক্যাসিনো হিরো নিরব বলেন, আমার কাছে এবারের ঈদের ছবি নিয়ে যে প্রতিযোগিতা দেখছি, তাতে মনে হয় বাংলা সিনেমারই জয় হয়েছে।