ধ্বংসপ্রাপ্ত জেনিন শিবির থেকে ঘরে ফিরছে ফিলিস্তিনিরা

ইসরায়েলি বাহিনীর জেনিনে দুই দিনব্যাপী অভিযান শেষ হল গতকাল বুধবার (৫ জুলাই)। রেখে গেছে শত শত মৃতদেহের ধ্বংসজজ্ঞ। এদিকে শিবির থেকে বাড়িতে ফিরে যেতে শুরু করেছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ইসরায়েলি হামলায় শরণার্থী শিবিরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যাচ্ছে। এসব শিবিরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করে। ইসরায়েলি হামলায় ক্যাম্পের ভবনগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। রাস্তার উপর গাড়িগুলো দুমড়ে-মুচড়ে এবং এখানে-সেখানে ভাঙা কাচ আর বুলেটের খোসা পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২ ফিলিস্তিনি নাগরিকের জানাজা ও শোক মিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়।

বাড়ির ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন ফাতিনা আল-ঘোল। কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পালাতে বাধ্য হয়েছি। তা না হলে আমি ও আমার মেয়েরা খুন হতাম। আমার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার সব শেষ।’ ফাতিনা তাদের এমতবস্থার জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘এই বাড়িটি আমাদের। আমরা অনেক ভীতিকর অবস্থায় বসবাস করছি। আমাদেরকে রক্ষার জন্য এটাই বাকী ছিল। আজ রাতে আমরা রাস্তায় ঘুমাবো। আমরা ঘরের ভেতরেও বসতে পারি না। আমাদের বা আমাদের প্রতিবেশীদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনিনে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের সময় ফাতিনা আল-ঘোল সহ আরও নয় জন নারী তাদের পরিবারের সাথে শিবির ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। ইসরায়েলি সেনা ক্যাম্প ছাড়ার পর তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। গত সোমবার (৩ জুলাই) ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এক হাজারেরও বেশি সৈন্য শহরে পৌঁছায়। এরপর তারা ক্যাম্পে হামলা শুরু করে। যা বুধবার (৫ জুলাই) মধ্যরাত পর্যন্ত চলে।

ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের হামলায় এক ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) একে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, ওই অঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার ও উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়। তবে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযানকে ‘জেনিনের জনগণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ’ বলে নিন্দা করেছে।