কাল থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা

কাল শনিবার থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষানবিশ ট্রেইনি চিকিৎসকরা। নামমাত্র ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ায় চিকিৎসকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা বলছেন, তাদের ভাতা ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত না করায় অবিরাম ধর্মঘটের পাশাপাশি শনিবার থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ট্রেইনি চিকিৎসকদের এই কর্মবিরতির ঘোষণায় কপালে ভাঁজ পড়েছে সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। একাধিক হাসপাতালের পরিচালকরা বলছেন, প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীতে সয়লাব। এখন এই ট্রেইনি চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে গেলে চিকিৎসাসেবায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। কারণ প্রতিটি সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এই ট্রেইনি চিকিৎসকরা। তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এফসিপিএস, এমডি, এমএস ডিপ্লোমা কোর্সের ডিগ্রিধারী এই চিকিৎসকরা নামমাত্র ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পেয়ে থাকেন। তাদের দাবি, সরকারি অন্যান্য পেশার লোকেরা অনেক বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকরা অবেহলার শিকার। তাদের নামে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা অপ্রতুল। তাদের ভাতা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরাই দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তি হয়। কলেজের শিক্ষাজীবন শেষে তারা এফসিপিএস, এমডি ও এমএস ডিপ্লোমা কোর্সের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে  বিভিন্ন হাসপাতালে ট্রেইনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। এজন্য সরকার থেকে তাদের ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। এখন এই ভাতা ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবি চিকিৎসকদের। কারণ ট্রেইনি চিকিৎসকরা না থাকলে ডেঙ্গুসহ সকল ধরনের রোগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, গত ছয় মাস ধরে আমাদের সমস্যাগুলো জানাতে এবং ভাতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের নানা দপ্তরে যাচ্ছি। সবাই বলছে আমাদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু সেই দাবি পূরণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ দেখতে পাচ্ছি না। এ কারণে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তারা।