সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সগুনা ইউনিয়নের চরকুশাবাড়ী গ্রামীণ সড়কের চৌরাস্তার চারপাশে প্রায় আধা কিলোমিটার করে দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। বর্ষা মৌসুমে পুরো সড়ক জুড়ে কাঁদায় পরিপূর্ণ থাকে। এমনিতেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না তার ওপর বৃষ্টি হলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাই সড়কটি পাকা করণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
চরকুশাবাড়ী গ্রামের আলাউদ্দীন, ওছমান আলী, পিন্টু, তোতা মিয়াসহ ভুক্তভোগী অনেকেই বলেন, যাতায়াতের কষ্ট তাদের আজন্মকালের। তাদের পূর্বপুরুষরা অনুরূপ কষ্টে করেছেন।
তারা বলেন, চরকুশাবাড়ী সড়কের চার মাথা হয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। শুষ্ক মৌসুমে এ সড়ক দিয়ে বাস, ট্রাক চলে। কিন্তু বৃষ্টি হলে পায়ে হাঁটা মুশকিল হয়ে পড়ে। কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। তাদের সন্তানরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এ জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় যবুক ইকবাল হাসান মুকুল বলেন, আমার বয়স এখন ২৭ বছর। জন্মের পর থেকেই ইউনিয়নের চরকুশাবাড়ি থেকে ধামাইচ বাজার সড়ক পর্যন্ত মানুষ এ অবস্থায় বসবাস করছে। এটি সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের একটি এলাকা। আমরা এই রাস্তায় কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না, হয়তো আমার বাবা-মা দেখেননি, তাই আমরাও দেখি না।
চরকুশাবাড়ি গ্রামের শিক্ষার্থী বায়েজিদ, ইমদাদুল হক, আছাদুল হক ও নাহিদ জানায়, বৃষ্টি হলে সড়কে কাঁদা হয়ে থাকে। সড়কের যেখানে-সেখানে গর্ত। যাতায়াতের ব্যবস্থার কারণে তারা সব সময় বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।
চরকুশাবাড়ী গ্রামের কোরবান আলী বলেন, সড়কের কাঁদায় পিছলে পড়ে গিয়ে তার বাম পা ভেঙে যায়। দুই মাসের বেশি হয়ে গেছে এখনো পা ঠিক হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের চরকুশাবাড়ী গ্রামীণ সড়কের চার মাথা হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহা সড়কের ১০ নাম্বার সেতু এলাকা ও কাছিকাটা টোল প্লাজা দিয়ে বের হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছান। এ সড়কের চার মাথার উত্তরে নাদোসৈয়দপুর খেয়াঘাট পাড় হয়ে তাড়াশ উপজেলা সদরে যেতে হয়। দক্ষিণে প্রসিদ্ধ ধামাইচ বাজার।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) দুপুরের দিকে সরেজমিনে তাড়াশের প্রত্যন্ত এলাকার চরকুশাবাড়ী সড়ক দেখতে গেলে তাৎক্ষণিক শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে তাদের দুঃখ ও দর্দশার কথা তুলে ধরেন।
তাদের সামর্থ্য থাকলে বহু আগেই এটুকো সড়ক পাকা করে নিতেন। চরকুশাবাড়ী দরিদ্র নিপীড়িত এলাকা। প্রধানমন্ত্রী নজর না দিলে সড়ক পাকা করার জন্য ভিক্ষা করা শুরু করবেন বলে জানান স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজের সহযোগিতা চেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা) এলাকার সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, বিশেষ অর্থায়নে হলেও আগামী শুস্ক মৌসুমে চরকুশাবাড়ী গ্রামীণ সড়ক পাকা করে দেওয়া হবে।