গাছ সংরক্ষণ আইন ও মাস্টারপ্ল্যানের দাবি বাপার

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের বড় বড় শহর, সিটি করপোরেশন, পৌর এলাকাসহ পুরো দেশের জন্য আমরা বৃক্ষ সংরক্ষণের মাস্টার প্ল্যান আমরা চাইতে পারি না কেন? ভারতের মতো একটি বিস্তারিত পদ্ধতি অবলম্বন করে গাছ কাটতে হবে, এমন আইন বা বিধিমালা চাইতে পারি না কেন? আইন থাকলে আপনার আমার হাতে একটি শক্তি থাকে, যেটা নিয়ে আমরা সরকারকে বলতে পারি, আপনি আপনার নিজের আইন পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কাজেই বৃক্ষ সংরক্ষণের জন্য আমি একটি আইন ও মাস্টারপ্ল্যানের দাবি করি।

শনিবার (৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা)র ‘বৃক্ষ নিধন ও তার পরিবেশগত প্রভাব: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রিজওয়ানা বলেন, বাংলাদেশে বন আইন-১৯৮৭ আছে। ‘গাছ কাটা যাবে না, কাটলে নিদিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে’ এই সংক্রান্ত একটি খসড়া সরকার ২০১৬ সালে প্রস্তুত করেন। সেই আইন মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হয়ে যখন সংসদে গেছে, তখন সংসদ থেকে বলা হলো, এমন কোনো আইন আলাদা করে প্রয়োজন নেই। বরং বিদ্যমান বন আইনের অধীনে বিধিমালা করে এটা করা সম্ভব বলা হলো। আমাদের কথা হলো, যেভাবেই করা সম্ভব হোক না কেন সেটা করেন। আর বসে থাকবেন না। 

রিজওয়ানা বলেন, আমার-আপনার টাকা দিয়েই সরকারি প্রকল্পগুলো হয়, তাহলে আমাদের কাছে কেনো নূন্যতম জবাবদিহিতা থাকবে না? ওই প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা যদি আমাদের দেয়া হয়, তাহলে আমরা তো ভালো পরামর্শও তাদের দিতে পারি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পরিকল্পনাবিদ আছেন। কিন্তু তিনি কি কর্তাব্যক্তির ইচ্ছার বাইরে গিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারবেন?

অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম শহীদুল ইসলাম, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাওহীদা রশীদ প্রমুখ।