চবির গবেষক টিম পরীক্ষা করে দেখেছেন ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানোতে মশা ধ্বংসের কার্যকারিতা নেই। তারা ফগার মেশিনের পরিবর্তে স্প্রে মেশিন ব্যবহারে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন সম্প্রতি নতুন করে আবার ৫০টি ফগার মেশিন কিনেছেন। মশা নিধনে কালো তেল ও স্প্রে মেশিন কেনার কোনো উদ্যোগ নেই। এতে চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য ডেঙ্গু রোগী সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এডিস মশা উত্সস্থল নিধনে সিটি করপোরেশন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে বলা হচ্ছে। কিন্তু নগরীতে মশক নিধনে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান তারা ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, মেশিন ও জনবলের বরাদ্দ বাড়িয়েছে।
গত ২২ জুন সিটি করপোরেশন নগরীতে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে ১০০ দিনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সিটি করপোরেশন মশার উত্স নিধনের কার্যক্রম ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন। প্রতি ওয়ার্ডে চার জন করে স্প্রে ম্যান ও ওষুধের বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া সিটি করপোরেশন ১০০ জনবল নিয়ে স্পেশাল টিম গঠন করেছেন মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। কিন্তু মাঠে এসবের কোনো কার্যকর তত্পরতা দেখছেন না নগরবাসী। দিনদিন মশার যন্ত্রণায় জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। হাসপাতাল ও বাসাবাড়িতে দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় নগরীর উত্তর কাট্টলি, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ফিরিঙ্গি বাজার, আলকরন ও দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়েছে। এসব এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার বেশি। সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম ইত্তেফাককে বলেন, ওয়ার্ডে মশা নিধনের ওষুধ বরাদ্দ বাড়িয়েছি। ১০০ জনের জনবল দিয়ে বিশেষ ফোর্স গঠন করা হয়েছে। ৫০টি ফগার মেশিন ক্রয় করেছি। ৫ হাজার লিটার কালো তেল কেনার প্রক্রিয়া চলছে।’
উত্তর কাট্টলি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ওয়ার্ডকে ১৫ ভাগে ভাগ করে ওষুধ ছিটাচ্ছি। কিন্তু উত্তর কাট্টলি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি তার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
ফৌজদারহাট বিআইডিআইটি হাসপাতালে বর্তমানে ২২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের নতুন ধরনের কোনো উত্স দেখা যাচ্ছে না। যেসব রোগী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তাদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। অনেকেই বিলম্বে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসছে। তাই জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা হলেই চিকিত্সকের কাছে গিয়ে চিকিত্সা নিতে হবে।’
মশক নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চসিক মেয়রকে অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াছ চৌধুরী। একই সঙ্গে উদ্বেগের কথা জানিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।