জনতার চাপে ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন নেতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই ‘কাটমানি’ বা ঘুষ ফেরত দিলেন বীরভূমের এক তৃণমূল নেতা। একশো দিনের কাজের জন্য বরাদ্দ শ্রমিকদের টাকা থেকে নেওয়া ‘কাটমানি’ ফেরত দিলেন তিনি। খবর আনন্দবাজারের।

 তৃণমূলের ওই নেতা দলের বুথ সভাপতি। নাম ত্রিলোচন মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সিউড়ির ছাতরা গ্রামে ১৪১ জন শ্রমিককে ডেকে খাতায় সই করিয়ে টাকা ফেরত দেন তিনি। 

সম্প্রতি দলের যে সব জনপ্রতিনিধি এবং নেতা ‘কাটমানি’ নিয়েছেন, তাঁদের তা ফেরানোর নির্দেশ দেন তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার ওই মন্তব্যের পর রাজ্য জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। 

অভিযোগ, একশো দিনের টাকা শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকার থেকে সরাসরি জমা পড়লেও সেই টাকা পেতেন না গ্রামের মানুষ।ছাতরার বাসিন্দা কমল মাল ছাতরা বলেন, ‘‘আমরা একশো দিনের কাজ করতাম। কিন্তু ব্যাংকের খাতা থাকত বুথ সভাপতির কাছে। তিনি আমাদের ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ফর্মে সই করিয়ে নিতেন।” 

অভিযোগ, সরকার থেকে টাকা জমা পড়লেই সই করে রাখা উইথড্রল স্লিপ দিয়ে টাকা তুলে নিতেন শাসক দলের ওই নেতা। তার পর সেখান থেকে একটা নির্দিষ্ট অংশ কেটে রেখে বাকিটা দেওয়া হত শ্রমিকদের। 

সোমনাথ মাল নামে অন্য এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘ন্যায্য টাকা চাইলেই আমাদের হুমকি দেওয়া হত। মারধরের হুমকি দেওয়া হত। পুলিশের ভয় দেখাত। কাউকে কিছু বলেও সুরাহা হত না। তাই আমরা চুপ করে থাকতাম।”

আরও পড়ুনঃ নাস্তিকের সংখ্যা বাড়ছে আরব দেশগুলোতে: জরিপ

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ‘কাটমানি’ বার্তার পর থেকেই রাজ্যের অন্য প্রান্তের মতো বিক্ষোভ শুরু হয় ওই গ্রামেও। গ্রামের বাসিন্দারা ত্রিলোচন মুখোপাধ্যায়য়ের কাছে টাকা ফেরত চান। এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরেই টাকা ফেরত দেবে বলছিল। শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে দিয়েছে।”

ইত্তেফাক/টিএস