ফেনীতে ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ঢাকায় তাদের বিভিন্ন শাখায় বদলি করা হয়েছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই ৬ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- রাশেদ খান চৌধুরী, ফেনীর ডিবি’র ওসি বর্তমানে ঢাকায় এপিবিএন এ, ফেনী থানার ওসি আবুল কালাম আজাদকে বর্তমানে শিল্প পুলিশ ঢাকা, ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়েও ডিআইওয়ান শাহীনুর জামানকে ঢাকার ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফুলগাজী থানার ওসি তদন্ত পান্না লালকে ঢাকার সিআইডিতে, সোনাগাজী থানার ওসি তদন্ত কামাল হোসেনকে ঢাকার এপিবিএন-এ এবং ডিএসবি পরিদর্শক শাহ্জাহান মিয়াকে ঢাকার সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বদলিকৃত কর্মকর্তারা দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বৎসর ফেনী জেলায় ঘুরেফিরে চাকরি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন একই জেলায় চাকরির কারণে ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানীসহ নানা অভিযোগ উঠেছিল।
বদলিকৃত ব্যক্তিরা ফেনীর পুলিশ প্রশাসনে চরম সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। ফলে এই সিন্ডিকেটের হাতে প্রশাসন জিম্মি হয়ে পড়ায় জেলায় এ সকল পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে হয়রানি করে আসছিলেন। একদিকে পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসন ও জনমনে বিরাজ করছিল ক্ষোভ। তাই এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়ার দাবি করেছিলেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বদলির পদক্ষেপ নেওয়ায় ফেনীর সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরে এসেছে।
আরো পড়ুন: ইভিএমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব: ড. হাছান মাহমুদ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়নাল আবদীন ২০০৮ সালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চাকরিতে প্রবেশ করে আজও একই কার্যালয়ে ঘুরেফিরে কর্মরত রয়েছে। ফেনী জেলার ৬টি থানায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ ধরনের কর্মচারী ১৫-১৬ বৎসর কর্মরত রয়েছেন।
ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকারী নুরুন্নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার স্টেনোগ্রাফারের অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অনতিবিলম্বে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলেও আশ্বাস দেন।
ইত্তেফাক/এমআই