বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) বিভিন্ন বাফার গুদামে সরবরাহ না করে সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানের (পোটন) মালিকানাধীন মেসার্স পোটন ট্রেডার্সের আত্মসাৎ করা ১ হাজার ৮০১ মেট্রিক টন সারের ক্রয়মূল্য ছিল ৫৫৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ক্রয়মূল্যের সঙ্গে অন্যান্য খরচ যোগ করা হলে বিসিআইসি তথা সরকারের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। হাইকোর্টে বিসিআইসির পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এ তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
সার আত্মসাতের সঙ্গে কারা জড়িত সেই বিষয়ে ২৩ জুলাই আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়াও ওইদিন জড়িতদের বিরুদ্ধে রায় প্রদানের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
এর আগে ‘পোটনের পেটে ৫৮২ কোটি টাকার সার’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারিভাবে আমদানি করা ৭২ হাজার মেট্রিক টন রাসায়নিক সার বন্দর থেকে খালাসের পর গুদামে পৌঁছে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে পরিবহনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পোটন ট্রেডার্স। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫৮২ কোটি টাকা। পোটন ট্রেডার্স সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানের (পোটন) মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। কামরুল আশরাফ খান সার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) সভাপতি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, তিনিই মূলত দেশে সারের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।
দুদকের কৌঁসুলি জানিয়েছেন, সার আত্মসাতের ঘটনা অনুসন্ধান করছে কমিশন।
উল্লেখ্য, এই সার আত্মসাতের বিষয়ে বিসিআইসিকে ব্যাখ্যা দিতে ৫ জুন নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষিত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পাশাপাশি দুদককে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় আদালত।