‘ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থানের বিষয়টি ব্রিটিশ আমলের বিধি’

২০১৭ সালের ১৪ জুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)- এর চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও। ১৪ জুন দুই বছর অতিবাহিত করেছেন বর্তমান উপাচার্য। কেমন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়? ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা, গবেষণা প্রভৃতি ক্ষেত্রে কী কী উন্নয়ন করেছেন এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদদাতা মোবাশ্বের আহমেদকে সাক্ষাত্কার দেন উপাচার্য।

 

ইত্তেফাক: আগামী ১৪ জুন আপনার উপাচার্য হিসেবে দুই বছর পূর্ণ হবে। এ সময়ে কী কী কাজ করেছেন?

উপাচার্য: গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছি। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্পকে বাস্তবায়িত করতে আমি পুরো ক্যাম্পাসকে ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির আওতায় এনেছি। দশটি রোবট আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। ই-টেন্ডার ও ই-প্রকিউরমেন্ট চালু করেছি। অচিরেই ই-ফাইলিং চালু হবে। ভার্চুয়াল ক্লাসরুম সচল করেছি। ওয়াই-ফাই ও স্মার্ট টেলিভিশনসহ দুটি বাস শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া হয়েছে। বিভাগেও এমফিল ও পিএইচডি এবং সান্ধ্যকালীন কোর্স নীতিগতভাবে চালু হয়েছে। ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং শেখ হাসিনা হলের একতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক: শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে আপনি কোনো এমপি, মন্ত্রীদের সুপারিশ গ্রহণ করেন না। এটা কতটুকু সত্য?

উপাচার্য: আমি দুই বছরে ৩৮ জন শিক্ষক, সাতজন কর্মকর্তা এবং ২১ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। নিয়োগে আমি কারো সুপারিশ গ্রহণ করি না—এটা শতভাগ সত্য। এজন্য চাকরির বিজ্ঞাপনে আমি উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করি যে ‘... যেকোনো তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে।’ আমি নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি। এখন সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ইত্তেফাক: আপনার বিরুদ্ধে প্রায়ই একটি অভিযোগ শোনা যায় তা হলো আপনি ক্যাম্পাসে থাকেন না। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

উপাচার্য: ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থানের বিষয়টি ব্রিটিশ আমলের বিধি। অনলাইন ও দ্রুত যোগাযোগের এ যুগে বিষয়টি কতটা প্রাসঙ্গিক তা আলোচনার দাবি রাখে। আমি প্রতিদিন গড়ে বিশ ঘন্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করি। রিপোর্টে যেদিন অনুপস্থিত হিসেব করা হয় সেদিনই কোনো না কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে আমার মাধ্যমে অথবা ক্যাম্পাসে কোনো অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছি। এই অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও পরিচালনা করি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমার কর্মঘন্টা কর্মকর্তার ন্যায় অনুসরণের প্রয়োজন হয় না। কারণ আমি যেখানেই থাকি না কেন সার্বক্ষণিক অন-ডিউটিতেই থাকি।

ইত্তেফাক:আপনি ৫৪টি জার্নাল প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এত জার্নাল নিয়মিত প্রকাশ করা সম্ভব কি?

উপাচার্য: গত দুই বছরে প্রায় দুইশরও বেশি সেমিনার/সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হয়েছে। ২৭টি বাংলা ও ২৭টি ইংরেজিসহ মোট ৫৪টি ত্রৈমাসিক জার্নাল প্রকাশের উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম। এর মধ্যে সাতটি জার্নাল নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। বাকিগুলোও প্রকাশিত হবে।

ইত্তেফাক: আপনি ক্যাম্পাস রেডিওসহ বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ উদ্বোধন করেছেন। এগুলো কি উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

উপাচার্য: ক্যাম্পাস রেডিও স্থাপনে টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। ক্যাম্পাস টেলিভিশন চালুর বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় চার নেতার নামে অ্যাকাডেমিক ভবনের নামকরণের জন্য তা ইতিমধ্যেই সিন্ডিকেটে পাস হয়েছে।