উইমেনস ডোর সহযোগিতার নতুন দ্বার

 যে কোনো একটি মেয়ের বাবা অথবা মা মারা গেছে কিংবা স্বামী মারা গেছে। হয়তো সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে, ব্যবসা কিংবা চাকরি কোনোটাই করতে পারছে না। যে কোনো ধরনের ব্যর্থতায় শেষ হয়ে যাচ্ছে জীবন, এগিয়ে যাওয়ার অবলম্বন খুঁজে পাচ্ছে না। যখন এ ধরনের সমস্যায় মেয়েরা পড়ে, তখন তারা কারো কাছে বলতেও পারে না অথবা উঠে দাঁড়ানোর কোনো সিঁড়ি খুঁজে পায় না। এসব সমস্যা নিয়েই কাজ করছে একটি প্রতিষ্ঠান, যার নাম উইমেনস ডোর। নারীদের হতাশা থেকে মুক্তি আর স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য কাজ করছে উইমেনস ডোর। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বেও রয়েছে ছয়জন নারী। কথা হয়েছিল তাদের ফেসবুক পেজের একজন অ্যাডমিন আনিকা জামানের সাথে। তার কাছ থেকেই জানা গেল বিস্তারিত।

২০১৭ সালে আইনজীবী লামিয়া রহমান মীম এবং অহনা তাসনিম খানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে উইমেনস ডোর। ইতিমধ্যেই তারা বেশকিছু কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য। তারা মেয়েদের ব্যবসায় আগ্রহী করে তোলার জন্য কয়েকটি মেলার আয়োজন করেছেন। মেয়েদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা, প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজন করেছে কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম। মেয়েরা ব্যবসা করতে আগ্রহী হলে বা নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে তারা। নতুন নতুন বিজনেস আইডিয়া, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ নানা ধরনের সাহায্য করে থাকে তারা।

রমজান মাসে তারা আয়োজন করে পথশিশু ও রিকশাচালকদের নিয়ে দারুণ একটি অনুষ্ঠান। দুই শতাধিক রিকশাচালক ও পথশিশুদের ইফতার করানোর ব্যবস্থা করেন তারা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য তাদের হাতে তুলে দেন পোশাক। নারীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এটি তাদের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ভালো উদ্যোগ। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে— তাদের কর্মকাণ্ড এখন পর্যন্ত নিজেদের অর্থায়নেই হয়ে থাকে। পথচলা খুব বেশি দিনের না হলেও স্বপ্ন দেখেন দেশের নারীদের নিয়ে বহুদূরের পথে পাড়ি দেয়ার। নারীদের জন্য এই নারীদের পথচলা শুভ হোক।