বিএনপির সংসদ বিলুপ্তির দাবি সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির দুরভিসন্ধি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির সংসদ বিলুপ্তির দাবি অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক। দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টিই তাদের উদ্দেশ্য।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতর সম্মেলন কক্ষে ‘গন্তব্য স্মার্ট বাংলাদেশ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বুধবার বিএনপির কর্মসূচি থেকে দেওয়া সরকারের পদত্যাগের দাবি পুরনো কথাই নতুন করে বলা। তবে সেখানে একটি বিষয় অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক, সেটি হচ্ছে তারা যে দাবি দিয়েছে সেখানে তারা বলেছে- সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। এতে প্রমাণ হয়, তারা আসলেই দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে চায়। সেটি করে তারা অসাংবিধানিক কোনো কিছুকে জায়গা করে নিতে চায়। সে লক্ষ্যেই তারা সংসদ বিলুপ্ত করার দাবি দিয়েছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যেই বিএনপি এই দাবি দিয়েছে।

‘গন্তব্য স্মার্ট বাংলাদেশ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করছেন তথ্যমন্ত্রী।ছবি: ইত্তেফাক

একদফা দাবিতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একদফা তারা মাঝেমধ্যেই ঘোষণা করে। একবার একদফা ঘোষণা দিয়ে বলেছিল- বেগম জিয়া সুস্থ হয়ে এসে সভায় যোগ দেবেন। তারেক জিয়া কীভাবে উড়ে আসবেন সে ব্যাখ্যা তারা দেয়নি, কিন্তু বলেছে তিনিও উড়ে এসে যোগ দেবেন। তারা এ রকম অনেক কিছু বলেছিল। কিন্তু সে আন্দোলন গরুর হাটে মারা গেছে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ঘোষণা দিয়েছিল বেগম জিয়ার যখন শাস্তি নিশ্চিত হবে তখন আন্দোলন করবে। কিন্তু তারা তা পারেনি। আবার বেগম জিয়াকে মাঝেমধ্যে খুব অসুস্থ বানিয়ে জীবন সংকটাপন্ন বলে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টাও হালে পানি পায়নি।

ইইউ এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমন নিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ইইউ প্রতিনিধি দল এসেছে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে, স্বপ্রণোদিত হয়ে নয়। তারা পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে এ সফরে এসেছে সুতরাং সেটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহায়ক। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলের আগমনকে বহুমাত্রিক সহযোগিতা বিষয়ক। তারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী, বাণিজ্যে অংশীদার।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা একটি মানবিক সমস্যা, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর আমাদের সম্পর্ককে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে সহায়ক।