জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারি নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি বলেছেন, ‘বিদেশিরা যদি সত্যিই মানবাধিকারের কথা ভাবতো তাহলে তারা মায়ানমার যেত। যেখান থেকে ১২ লাখ মুসলমানকে তাড়ানো হয়েছে। যেখানে এখনো মানুষ বসবাস করতে পারেনা। তারা পাকিস্তান যেত। যেখানে এখন গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। তারা কিন্তু সেই সব দেশে যাচ্ছে না। তারা আমাদের দেশে আসছে, কারণ আমরা এখন সারা পৃথিবীর একটি বড় মার্কেটে চলে গেছি। আমাদের এখন অনেক ক্রয়ক্ষমতা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পরিষদের নূর-ই-আলম চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ঢাকার শহর ভরে গেছে বিদেশিতে। মিটিং করছে। এতেই প্রমাণ হয় বাংলাদেশে উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয়েছে। আজকে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো হয়েছে বলেই অন্যান্য দেশ আমাদেরকে নিয়ে চিন্তা করে। আর যদি আমাদের অবস্থা খারাপ থাকতো তাহলে কিন্তু তারা আমাদেরকে নিয়ে চিন্তা করতো না। আমরা এখন বিদেশ থেকে অনেক কিছু আমদানি করি আবার অনেক কিছু রপ্তানিও করি। আমরা এখন শক্তিশালী জাতি। প্রধানমন্ত্রী এই জায়গাটিতে নিয়ে গেছেন বলেই আজকে আমরা এটি দেখি।
তিনি বলেন, আজ বিএনপিসহ অনেকে মানবাধিকারের কথা বলে। মানবাধিকারের কথা যদি বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর বলা হতো তাহলে বোঝা যেত তারা মানবাধিকারের কথা বলেছে। তারা মানবাধিকারের কথা তো বলেইনি বরং যারা খুনি ছিল তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে। এখনো তাদের দেশে বঙ্গবন্ধুর অনেক খুনিরা আছে। ২১ আগস্ট, কিবরিয়া সাহেবসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তখন তো কেউ মানবাধিকারের কথা বলে বাংলাদেশে আসেনি।
বিএনপি আমলে যখন বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তখন তো মানবাধিকারের কথা বলে নাই। এদেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করা হচ্ছে তখন মানবাধিকারের কথা বলা হচ্ছে। এখন আবার পুরনো বন্ধুরা এক হয়ে নড়েচড়ে বসেছে। কারণ তারা দেখেছে শেখ হাসিনা যেটা বলে সেটা করে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান আ. লতিফ মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো. রাজিবুল ইসলাম, পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, শিবচর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।