রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ, অভিযোগ এইচআরডব্লিউ'র  

বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সংস্থাটি এমন অভিযোগ করেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের অর্ধেক সময়ে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অন্তত ৪৮ জন সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দ. এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা এখন সহিংস গোষ্ঠী ও একটি উদাসীন বিচার ব্যবস্থার হুমকির মুখে।  

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের গত ৬ ছয় মাসে অন্তত ৪৮ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র গ্যাংয়ের হাতে তারা নিহত হয়েছেন। এর আগে, গত ২০২২ সালে সহিংস গোষ্ঠীর হাতে ৪০ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া কয়েক ডজন রোহিঙ্গাকে অপহরণ-নির্যাতনের কথাও বলা হয়েছে এইচআরডব্লিউ-এর রিপোর্টে। 

rohinga

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাস করা অন্তত ৫০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এইচআরডব্লিউ। এরপর সংস্থাটি হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ-যৌন নিপীড়ন এবং জোরপূর্বক বিবাহের মতো অপরাধের ২৬টি ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে। 

ভুক্তভোগীরা পুলিশি সহায়তার অভাবের অভিযোগ করেছে বলে এইচআরডব্লিউর রিপোর্টে বলা হয়েছে। ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ১৬ জন নিহত হয়েছেন এই বছরে। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত তিনটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটির কমান্ডার হারুন-উর রশিদ ইএফইকে জানান, বেশিরভাগই সংঘটিত লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ডই এআরএসএ (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) বা আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন) পরিচালিত। তারা প্রকাশ্যে কিছু করতে পারে না। 

rohinga camp

এই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যখন কাউকে গোপনে লক্ষ্যবস্তু করা হয় তা মোকাবিলা করা কঠিন। আমরা বেশিরভাগই প্রতিরোধ করতে পারতাম, কিন্তু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। 

বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অন্তত ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। গত সপ্তাহেই কক্সবাজারের এক রোহিঙ্গা শিবিরে সবশেষ সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।