নারায়ণগঞ্জে অবৈধ মেলা, জুয়া ও মাদকের আস্তানা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরাইল লেকসংলগ্ন খেলার মাঠে মেলা বসিয়ে অবৈধ কার্মকাণ্ড ও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ উঠেছে। বাবুরাইলের প্রভাবশালী ও সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা ও তার স্বামী বিএনপি নেতা হাসান আহমেদের ছত্রছায়ায় তাদের অনুগত লোকজন মেলার আড়ালে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড করে প্রতি বছরের মতো এবারও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে এই মেলা বসানোর বিষয়টি অবগত নয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র।

জানা গেছে, নাসিকের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আফরোজা আফরোজ বিভার স্বামী বিএনপি নেতা হাসানের সহযোগী লিমন, আলতাব, এরশাদসহ এলাকার কয়েক জন যুবকের অধীনে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। তবে জুয়া, মাদকসহ নানা অপকর্মের জন্য এটি সমালোচনার মুখে পড়ে। তাই এ বছর মেলাটির নাম দেওয়া হয় ঈদ আনন্দ শিশুমেলা। অথচ এবারও এই মেলাকে ঘিরে বিভিন্ন অপকর্ম ও বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১ নম্বর বাবুরাইলের এক দোকানি বলেন, ‘মেলার ২৫টি দোকান আছে। প্রতিটি দোকান থেকে

৩০ থেকে ৪০ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে। এই দোকানের বিদ্যুত্ চুরি হচ্ছে। খুঁটি থেকে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হয়েছে। এখানে আবার কমিটিও আছে। লিমন, আলতাব ও এরশাদ এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। এরাই সব করছেন। শুনছি হাসান ভাই ওদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে দেশের বাইরে ঘুরতে গেছেন। আসলে হাসান ভাইয়ের শেলটারেই প্রতি বছর এই মেলা বসে।’ এদিকে এই মেলাটি বসানোর জন্য নাসিক কিংবা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে মেলা কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমতি নিয়েছেন কিনা সেই বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে গেলে সাংবাদিক আসার খবরে মেলা কমিটির লোকজন চলে যায়। তাই তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা নিয়ে কোনো ইজারা হলে আমার এখানেই হতো। তবে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। যারা মেলা বসিয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসা করেন কার কাছ থেকে নিয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী বাইন হীরা বলেন, ‘আসলে এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারছি না যে সেখানে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনি নেজারত শাখায় যোগাযোগ করুন সেখানে থেকে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়।’ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (নেজারত শাখা) রবিন মিয়া বলেন, ‘এই বিষয়টি আমি সঠিকভাবে বলতে পারব না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রিয়াদ হাসান বলেন, ‘এই মেলাটি কারা চালাচ্ছে সেটা আপনারা আমার চেয়ে ভালো জানেন। এখানে একটি জুয়া চলছে, ধান্দাবাজি চলছে। আমি যতটুকু জানি যারা এই মেলাটি নিয়েছে তারা ৫ লাখ টাকা নিয়ে ঘুরে গেছে এমন খবরও শুনেছি। তবে এই মেলার নাসিক থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা বলতে পারি না।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু বলেন, ‘এটা তাদের বিশেষ ক্ষমতায় তার স্ত্রীর ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এটা আমার ওয়ার্ডে না হলেও বিভিন্ন লোকজন আমার কাছে অভিযোগ করেছে এখানে নানা অপকর্ম চলছে। গত বছরও আমাকে অনেকে বলেছে, এখানে মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্ম হয়। আমি তাদের বলেছি মেয়রকে জানান।’