ইতিহাস গড়ে উইম্বলডনের মুকুট জিতলেন ভন্দ্রুসোভা

প্রথম কোনো অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডন জিতে ইতিহাস গড়লেন চেক প্রজাতন্ত্রের মার্কেতা ভন্দ্রুসোভা। তিউনিশিয়ার ওনস জাবেরকে সরাসরি সেটে (৬-৪, ৬-৪) হারিয়ে ঘাসের কোর্টের নতুন রানির খেতাব পেলেন এই চেক সুন্দরী। 

একদিকে ভন্দ্রুসোভার ইতিহাস অন্যদিকে টানা দুইবার উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে না পারার হতাশায় মোড়া জাবের। কাগজে কলমে ফাইয়ানলে আগে ফেভারীট ছিলো জাবেরই। তবে গতবারের মতো এবারও ফাইনালে এসে শিরোপা হাতে তুলতে পারলেন না এই আফ্রিকান। এই নিয়ে তিনটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের ফাইনালে হেরে চোকার্স খেতাবও পেয়ে গেছেন ওনস জাবের।

ছবি: সংগৃহীত

এদিকে, উইম্বলডনের নতুন রানি বনে যাওয়া ভন্দ্রুসোভার জন্য দিনটি যেন ছিলো রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার। গতবছর উইম্বলডনের আসরে থাকতে হয়েছিলো গ্যালারিতে বসে। মাঝে ইনজুরির কারণে প্রায় অর্ধবছর কোর্টে নামতে পারেননি। এবারে উইম্বলডনে এসেছিলেন অবাছাই হয়েই। আর প্রথমবারের মতো সেই অবাছাই খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা জিতে ইতিহাসই গড়ে ফেললেন ভন্দ্রুসোভা। 

এর আগে কখনও ঘাসের কোর্টের এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় রাউন্ডই পার হতে পারেননি ভন্দ্রুসোভা। র‍্যাংকিংয়ের ৪২ নম্বর এই তারকা উইম্বলডনের শুরু থেকেই সবাইকে চমকে দিয়েই জিতে নিলেন শিরোপা।

ছবি: সংগৃহীত

এর আগে ২০১৯ সালে একবার ফরাসি ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন ভন্দ্রুসোভা। সেবার ফাইনালে অ্যাশলেই বার্টির হেরে যান। এবার উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করলেন এই চেক সুন্দরী। 

শিরোপা জিতে নিজেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না সেটি। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চেক টেনিস তারকা বলেন,  ‌‌‘কী হচ্ছে, আমি বুঝতে পারছি না-অসাধারণ, অবিশ্বাস্য অনুভূতি।’

ছবি: সংগৃহীত

ট্রফি হাতে নেওয়ায়র পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ভন্দ্রুসোভা বলেন, ‘কাল আমার প্রথম বিবাহবার্ষিকী। তার আগে সবাইকে একসঙ্গে দেখে খুব ভাল লাগছে। আমার বোন কাঁদছে। ইচ্ছে রয়েছে সবাইকে নিয়ে একটু বিয়ার খেতে যাব। গত কয়েকটা সপ্তাহ একটানা খেলে বিধ্বস্ত।’

নিজের কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উইম্বলডনের নতুন রানি বলেন, ‘আমি আমার কোচের সঙ্গে বাজি ধরেছিলাম, যদি আমি ফাইনালে জিতি তাহলে সেও ট্যাটু আঁকবে। এবার আর তার নিস্তার নেই। আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এখন একটু পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই।’