চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রবাসী মাসুদুর রহমান মীর্জা হত্যা মামলার আসামি আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে রিমান্ডের তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাদী পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ বলেন, আসামি আকতার হোসেন নিম্ন আদালতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ও রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এতে আইনের ব্যতয় ঘটেছে। এটি গুরুতর অপরাধ ও আদালতের সঙ্গে প্রতারণা। আমরা তার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছি। এখন আদালতের আদেশের অপেক্ষায়।
২৫ মার্চ ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা বাজার মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে মাসুদুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে ভূজপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান বাবু।
হত্যকাণ্ডের দিন আসামী শামীম হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। ১১ জুন বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আকতারকে কারাগারে পাঠান আদালত। বাকি তিনজন জাহাঙ্গীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলামের জামিন শুনানির জন্য পোস্টমর্টেম ও সুরতহাল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয় ৯ জুলাই। শুনানিতে পোস্টমর্টেম ও সুরতহাল প্রতিবেদনে ভিকটিম মীর্জার শরীরে ধারালো অস্ত্রসহ আরও একাধিক আঘাত থাকায় রোববার আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া। এ নিয়ে মীর্জা হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারভুক্ত ছয় আসামি জেলহাজতে যায়।
২০ জুন আকতারসহ তিন আসামিকে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবোদন করেছিলেন মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। পরে আসামি পক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আদেশটি স্থগিত করে। কিন্তু মামলার আসামি আকতার দু’দিনের রিমান্ড স্থগিতের বিষয়টি গোপন করে উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করেন। তার আবেদনটি ২ জুলাই আদালত মঞ্জুর করলে তিনি জামিন পান।