জেপি নেতা সালাম হত্যা

হত্যাকারীরা শনাক্ত, যেকোনো সময় গ্রেফতার

জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম বাহাদুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। যে কোনো সময় হত্যাকারীরা গ্রেফতার হবে বলে জানিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্পল বড়ুয়া। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সেটি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী নারী ঘটিত কোনো বিষয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে ব্যাবসায়িক বিরোধও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

ওসি উৎপল বড়ুয়া বলেন, যে প্রাইভেট কারে করে লাশ ফেলে যাওয়া হয়েছে, সেই গাড়িটি আগেই শনাক্ত করা হয়েছে। যারা ঐ প্রাইভেট কারে ছিলেন তাদেরও পরিচয়ও পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশের একটা টিম হত্যাকারীদের ধরতে অভিযানে আছে। যে কোনো সময় তারা গ্রেফতার হতে পারে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতার করা গেলেই আসল রহস্য জানা যাবে।

গত শনিবার মধ্যরাতে লাল রঙের একটি প্রাইভেট কার থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে জেপি নেতা সালামের লাশ এক তরুণ ও এক তরুণী ফেলে যায়। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার হাত ও হাতের কবজি ভেঙে এবং পায়ে ড্রিল মেশিন দিয়ে ছিদ্র করে হত্যা করা হয়েছে।

আমাদের ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের নলবুনিয়া মসজিদ ঈদগাহ ময়দানে আব্দুস সালাম বাহাদুরের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম মতিউর রহমান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদারসহ জাতীয় পার্টি-জেপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সালাম বাহাদুরের হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করেছেন ইন্দুরকানী উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির আহ্বায়ক মো. শাহীন হাওলাদার, সদস্য সচিব মাসুদ করিম তালুকদার ইমনসহ উপজেলা জেপির নেতৃবৃন্দ। জেপি নেতারা অনতিবিলম্বে আব্দুস সালাম বাহাদুরের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আব্দুস সালাম বাহাদুর (৫৮) জেপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানিতে। ঢাকায় ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের ৩৫-এ বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগে ঠিকাদারি করতেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের সময় জগন্নাথ কলেজে ছাত্রনেতা ছিলেন। জেপি হওয়ার পর কিছু দিন দলের সহযোগী সংগঠন যুব সংহতিতে ছিলেন তিনি। পরে মূল পার্টিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে তিনি পুরো মাত্রায় সক্রিয় ছিলেন।