মানিকগঞ্জের যুবক খুন: অসঙ্গতির জবাব না মেলায় প্রতিবেদন গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট

মানিকগঞ্জ সদরের কৈতরা গ্রামের আমেনা হ্যাচারিতে খুনের মামলার তদন্তে পাওয়া অসঙ্গতির জবাব না মেলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। অসঙ্গতির বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২৫ জুলাই তাকে ব্যাখ্যা দিতে মঙ্গলবার নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসেন দোলনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত বলেন, পূর্বের করা তদন্তের অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যা না দিয়ে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যে অসঙ্গতির বিষয়ে আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম সেটা তো অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখতে পাচ্ছি না। আপনি (পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা) কি পূর্বের তদন্ত কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে চাচ্ছেন। যিনি তদন্তের অসঙ্গতির ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে সাসপেন্ড করেছিলাম। এটা কেমন তদন্ত হলো।

এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী আদালতে বলেন, এটা অসাবধনতাবশত হয়েছে। আমরা আগামী ধার্য তারিখে এই অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে দেব।

প্রসঙ্গত, মানিকগঞ্জের আমেনা হ্যাচারিতে রুবেল নামে এক শ্রমিক খুন হন। এই খুনের মামলায় প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদুর রহমান মাত্র দুই ঘন্টায় ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাক্ষী রেকর্ডের সময় তিনি আসামিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকটও হাজির করেন। একজন তদন্ত কর্মকর্তা এত অল্প সময়ে ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি কিভাবে হাতে রেকর্ড করলেন-সেই অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এসআই মাসুদুর রহমানকে সাসপেন্ড করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে একইসময়ে ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের জবানবন্দি রেকর্ডকালে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে হাজির করেন মর্মে কেস ডকেট থেকে তথ্য পায় হাইকোর্ট। এই অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু এই অসঙ্গতির বিষয়ে ব্যাখ্যা না দিয়ে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা। ফলে হাইকোর্ট এ তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি।

একইসময়ে আসামি ও সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড বাস্তবসম্মত নয়

এদিকে এই খুনের মামলার প্রথম তদন্ত রিপোর্টের বিষয়ে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেন পিবিআই পুলিশ সুপার। সেখানে বলা হয়েছে, প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আসামিকে সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য উপস্থাপনের সময় এবং ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ডের সময় একই দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আমেনা হ্যাচারিতে রুবেল (২২) খুনের ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী চম্পা বাদী হয়ে সোহেল ওরফে নুরন্নবীকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামি সোহেল মামলার বাদী চম্পার খালাতো ভাই। সেই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে সোহেল। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ায় হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন মামলা করেন। পাশাপাশি মামলার বাদী চম্পাও মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। তিনি আবেদনে বলেন, উনি নিজে থেকে এই মামলা করেননি। তার কাছ থেকে শুধু সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়েছে পুলিশ। এরপরই সেই মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য গত ৩ এপ্রিল পিবিআইকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পিবিআই অধিকতর তদন্ত শেষে সোহলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়।