হত্যাকারীসহ তিন ছিনতাইকারী গ্রেফতার

মোবাইল ফোন না দেওয়ায় রাকিবকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা

রাজধানীতে ধানমন্ডি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আদনান সাঈদ রাকিব ও তার বন্ধু রাইয়ার রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চা-পান করতে যান। চা-পান করে বাসায় ফেরার পথে মিরপুর রোডসংলগ্ন শেখ জামাল মাঠের পূর্বপাশে নার্সারির সামনে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় কয়েক জন ছিনতাইকারী তাদের ওপর নাটকীয় হামলা করে। প্রথমেই রাকিবের বন্ধু রাইয়ানকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। রাইয়ান সেখান থেকে দৌড়ে পালায়। পরে রাকিবের মোবাইল ফোন চাইলে তিনি দিতে চাননি, আর এতেই ছিনতাইকারীরা রাকিবকে সুইচগিয়ার চাকু দিয়ে ডান পাশে কাঁধের নিচে ও বাম পায়ের উরুতে আঘাত করে এবং মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাকিব মারা যান।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত রাকিবের পরিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করে। পরে অভিযান চালিয়ে হত্যাকারীসহ তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন—মো. ইকবাল (১৬), মো. সুমন ভুঁইয়া ওরফে বড় সুমন (২৫) ও মো. সুমন ওরফে কালু সুমন ওরফে ছোট সুমন (১৪)। অভিযানে তাদের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। 

তিনি বলেন, ধানমন্ডি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আদনান সাঈদ রাকিব (১৭) হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, মূল আসামিসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছি। 

ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী আদনান সাঈদ রাকিব কলাবাগানের গ্রীন রোড স্টাফ কোয়ার্টারে ৪/বি/২ বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তার বন্ধু রাইয়ানসহ ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে চা-পানের কথা বলে বাসা থেকে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বের হয়ে যায়। ভুক্তভোগী ও তার বন্ধু রাইয়ানসহ রবীন্দ্র সরোবর হতে চা- পান করে বাসায় ফেরার পথে মিরপুর রোড সংলগ্ন শেখ জামাল মাঠের পূর্বপাশে নার্সারির সামনে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে  আসছিলেন। 

তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার পর রাকিব চিত্কার করলে আশপাশের কোনো লোকজন এগিয়ে না আসায় ভুক্তভোগী রাস্তা পার হয়ে পূর্বপার্শ্বে গ্রীন রোড স্টাফ কোয়ার্টারের ১ নম্বর গেট দিয়ে ৫০ গজ সামনে এসে রাজুর বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর পড়ে যান। ভুক্তভোগী যে কোয়ার্টারে থাকতেন সেখানকার একজন আবু বক্কর সিদ্দিক রাকিবের বাবাকে বিষয়টি মোবাইলে অবগত করেন এবং ভুক্তভোগীর বড় ভাই আরমান সজিব হূদয়কে ডাকেন। এই খবর  পেয়ে ভিকটিমের বড় ভাই দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে নিয়ে যায়। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ঈদের পর ছিনতাইয়ের ঘটনা কিছুটা বেড়েছিল। এরপর ডিবি ও থানা পুলিশ ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান আমরাই (ডিবি) প্রায় ১০০ জনের মতো ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছি।