অভিনয় ও  রাজনীতিতে সমানতালে

‘শেষ নায়ক’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে মিডিয়াতে উর্মিলার অভিষেক হয়েছিল। কিন্তু সেই চলচ্চিত্র আর আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তী সময়ে একজন লাক্স তারকা হিসেবেই মিডিয়াতে তার দাপুটে পদচারণা শুরু হয়। এখন দর্শকের খুব প্রিয় একজন অভিনেত্রী তিনি। সাথে রাজনীতিবিদও।

সম্প্রতি  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ‘বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ’র সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ঊর্মিলা শ্রাবন্তী করের নাম ঘোষণা করা হয়। ছাত্রজীবন থেকেই ঊর্মিলা বাংলাদেশ আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সেই ধারাবাহিকতায় দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়েই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আর একজন ব্যক্তি ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর সবার জন্য যেমন বিপদে আপদে নিবেদিত হয়ে কাজ করে মানুষের সেবায়— তাই তার প্রিয়জনেরা তাকে আগামীতে আরও বড় পরিসরে দেখতে চায়। কারণ তারমধ্যে সেই ব্যক্তিত্ব, সেই গুণ এবং মানুষের জন্য কাজ করার মতো মানসিকতা রয়েছে। ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর একজন নন্দিত অভিনেত্রী। নিয়মিত নাটকে অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও। গত  কয়েকদিন তিনি জরুরি কাজে দেশের বাইরে ছিলেন।

image-529676-1647061040

নতুন পদ পাওয়া প্রসঙ্গে ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর বলেন, ‘আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি এই আশীর্বাদ কামনা করি সবার কাছে। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আমাকে মনোনীত করায় আমি দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

ঊর্মিলার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অনন্ত কুমার ২০১৬ সালে মারা যান। ২০০৯ সালের একজন লাক্স তারকা উর্মিলা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভীষণ পরিশ্রম করতে জানেন বলেই লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় শীর্ষে না থেকেও নিজের মেধা দিয়ে, অভিনয় দিয়ে চলে এসেছেন দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে।

প্রশ্ন রাখি একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে কি আপনি সন্তুষ্ট? জবাবে মিষ্টি হাসি দিয়ে উর্মিলা বলেন, ‘দর্শকের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ ভালোবাসা পাই তাতে সত্যিই আমি সন্তুষ্ট। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন দর্শকের অসীম ভালোবাসা। আমি হয়ত চাইলেই একজন আইনবিদ হতে পারতাম, হয়তবা সেক্ষেত্রেও ভালো করতাম। কিন্তু দর্শকের এত কাছে যাওয়ার কোনো উপায় থাকতো না। তাই আমি সবসময়ই কৃতজ্ঞ দর্শকের কাছে এবং সন্তুষ্ট তো অবশ্যই।’

নিজের অভিনয় নিয়ে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার বারবারই মনে হয় আমার অভিনয় কিছুই হয় না। তাই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাটক,  টেলিফিল্মে নতুন নতুন চরিত্রে নিজের অভিনয় আরো ভালো করার চেষ্টা করি। প্রত্যেক সহকর্মীর কাছ থেকে অভিনয়ের কিছু না কিছু শিখি। শুধু তারকা অভিনয়শিল্পীর কাছ থেকেই নয় তারকাখ্যাতির বাইরেও অনেক অভিনয়শিল্পী আছেন যাদের কাছ থেকে অভিনয় শেখা যায়। আমি তাদেরকেও অভিনয় শেখার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেই। ’ অভিনয়ে উর্মিলার অনুপ্রেরণা তার বাবা মা। যখন তিনি পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন তখন বাবা মা চাইতেন পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়েও সময় দিক। যখন কোনো নাটকে তিনি অভিনয় করতেন, তা টিভি পর্দায় দেখার জন্য বাবা মা আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতেন।

উর্মিলা বলেন, ‘আমার বাবা মা’র কারণেই আসলে অভিনয়ে নিয়মিত হওয়া। তারা সবসময়ই আমাকে অভিনয়ের জন্য অনুপ্রেরণা দিতেন। আর আমিও দর্শকের কাছ থেকে একটু একটু করে ভালোবাসা পেয়ে এই ভালোবাসার লোভেই আটকে গেলাম অভিনয়ের আঙ্গিনায়।’