বৃক্ষরোপণ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট

শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী অ্যাসাইনমেন্টের এক প্রচলন শুরু হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তারিফুল ইসলাম তার শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিয়েছেন বৃক্ষরোপণ করতে। এর ভিত্তিতে দিচ্ছেন নম্বর।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ এবং ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দুইটি কোর্সের অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে ৪০টি ওষুধি, ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেন। জাককানইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন।

সহকারী অধ্যাপক মো. তারিফুল ইসলাম বলেন, ‘নানা কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ উপায় বনায়ন বাড়ানো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন হওয়ায় এখানে এখনো অনেক নির্মাণ কাজ চলমান। ফলে সেভাবে সবুজায়ন করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানোর অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার মাধ্যমে যেমন সবুজায়ন হচ্ছে, তেমনি তারাও গাছপালার প্রতি সংবেদনশীল হচ্ছে।’

‘কারেন্ট গ্লোবাল ইস্যুজ’ শীর্ষক কোর্সের অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ব্যাপারে পড়াশোনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরিবেশকে সুন্দর রাখার দায়িত্বও নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন তারা। ফলদ বৃক্ষের পাশাপাশি তারা ওষুধি ও ফুলের গাছ লাগাচ্ছেন। আমড়া, কাঠবাদাম, বরই, আম, কাঁঠালও রয়েছে এর মধ্যে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন খালি জায়গায়— যেখানে নতুন স্থাপনা বা ভবন তৈরির সম্ভাবনা নেই, সেসব জায়গা নির্বাচন করেছেন শিক্ষার্থীরা। কোন জায়গায় কোন গাছ লাগালে ভালো হবে, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এরপর পরিকল্পনামাফিক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা জুথি বলেন, ‘আমরা এটিকে একটি মহৎ উদ্যোগ মনে করছি। আমরা যত বেশি গাছ লাগাব তত বেশি আমাদের পরিবেশ সুন্দর হবে। এমন উদ্যোগ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নেওয়া উচিত।’

সহকারী অধ্যাপক মো. তারিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ অ্যাসাইনমেন্টে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর খরচ হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। যেকোনো অ্যাসাইনমেন্টেই কিন্তু কিছু টাকা খরচ হয়। যেমন কাগজ-কলম কেনা, প্রিন্টিং এবং স্পাইরাল বাইন্ডিংয়ের খরচ। সেক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের অন্তত আশি-নব্বই টাকা খরচ হয়। কিন্তু গাছ লাগানোর নির্দেশনা পেয়ে তারা আনন্দের সঙ্গে কাজ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীরা শুধু গাছ লাগিয়েই থেমে থাকেনি, তারা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে সমান উৎসাহে। কারণ গাছ লাগিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে সেই গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। আর এ ব্যাপারেও তারা সচেতন।