পটিয়ায় এলজিইডির রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে খালে পরস্পরকে দুষছে দুই বিভাগ

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক মেরামতের এক বছরের মাথায় খালে বিলীন হতে চলেছে। এজন্য এলজিইডি দায়ী করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এলজিইডির রাস্তার পাশে রিটেইনিং ওয়াল না দেওয়ায় রাস্তা ভেঙে খালে চলে যাচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বরলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া পাকা রাস্তাটির অন্তত চারটি স্থান খালে দেবে গেছে। এজন্য ঐ সড়কে গত এক মাস ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি রাস্তার পাশে কাজী খালটি পুনঃখনন করে। খননের পরপরই পানি প্রবাহ শুরু হলে খালের পূর্বপাড় ভাঙতে শুরু করে। পাশে একটি পাকা বাড়িও খালের মধ্যে বিলীন হতে চলেছে।

পটিয়া এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল জানিয়েছেন, পাউবো খালটি খননের পর রাস্তাটি ভাঙতে শুরু করে। এজন্য তারা প্রথমে মৌখিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ দিয়েছিলেন। তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় লিখিতভাবে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন তারা খালের পাড়ে বালু ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছেন। এলজিইডির পটিয়ার সহকারী প্রকৌশলী অনুপম সেন জানিয়েছেন, বরলিয়া রাস্তাটি ২৪ লাখ টাকায় মাত্র এক বছর আগে মেরামত করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী দুই বছর আগে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দেওয়া যায় না। রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য পাউবোকেই উদ্যোগ নিতে হবে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় এলজিইডির ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঐ এলাকার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মনোয়ার জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত খাল খননের ফলেই রাস্তাটি খালে বিলীন হতে চলেছে। তিনি বলেন, রাস্তার পাশে ২০টির মতো গাছ ছিল। সেগুলো ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত, সেগুলোও কেটে ফেলা হয়। 

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অপু দেব জানিয়েছেন, এলজিইডি খালের পাড়ে রাস্তা করলেও তারা রাস্তার পাশে প্লাসাইড দেয়নি। ফলে খালটি খনন করার পর পানির প্রবাহ বাড়লে রাস্তাটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। তারা বর্তমানে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছেন।

এদিকে উপজেলা সদর থেকে আমজুর হাট হয়ে জঙ্গলখাইনের মধ্য দিয়ে বরলিয়া, আশিয়া ও বাংলাবাজারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের গাড়ি নিয়ে বহুদূর ঘুরে যেতে হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি মেরামত ও খালের ভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।