ঋণ শোধের চিন্তায় ঘুম নেই কদমতলার অর্ধশত পরিবারের

‘ভরা আষাঢ়েও বৃষ্টির দেখা নেই। মৌশুমের অর্ধেক সময় শেষ। পানির অভাবে বেচাকেনা প্রায় বন্ধ। মহাজন ও এনজিওর ঋণের টাকা কিভাবে শোধ করবো সে চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।’ কথাগুলো বলছিলেন শরণখোলা উপজেলার চাঁইগ্রামখ্যাত উত্তর কদমতলা গ্রামের চাঁই ব্যবসায়ী জামাল মুন্সি।

মঙ্গলবার সকালে চাঁই গ্রামে গেলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চাঁই ব্যবসায়ী  জামাল মুন্সি জানান, বছরের জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় ও শ্রাবণ এ তিন মাস তারা ব্যবসা করেন। এর আগে মাঘ মাসে গ্রাম থেকে বাঁশ ও অন্য উপকরণ কিনে মাছ ধরার চাঁই বানানো শুরু করেন। বৈশাখ মাস পর্যন্ত তারা একেকজন এক থেকে দেড় হাজার চাঁই তৈরি করেন। জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়ের বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেলে তাদের বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়।

সাধারণ মানুষ চাঁই কিনে নিয়ে খাল বিল মাঠ ঘাটে চাঁই পেতে মাছ ধরেন। তিনি বছরে দুই লাখ টাকার চাঁই বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ করেন যা দিয়ে সারা বছর সংসার চালান। এ বছর তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাঠে ঘাটে পানি নেই ফলে চাঁই বিক্রি হচ্ছে না। মৌশুমের অর্ধেক সময় পেরিয়ে এসে তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে বানানো চাঁই অবিক্রিত থেকে যাবে বলে। 

একই ধরণের কথা বলছিলেন চাঁই ব্যবসায়ী আনোয়ার আকনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, দুলাল হাওলাদার, রফিকুল, ফরিদ, খোকন, হাবিব, হেলাল ও রাসেল হাং। তারা জানান, উত্তর কদমতলা গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার গত প্রায় ৩০ রছর ধরে তারা গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার চাঁই তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন। 

মোড়েলগঞ্জ, সন্যাসী, তুষখালী, মঠবাড়ীয়া, ভান্ডারিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা এসে পাইকারী দরে কয়েক হাজার চাঁই কিনে নিয়ে যায়। একটি চাঁই ১শ টাকা থেকে ১শ ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখানে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চাঁই বেচাকেনা হয়ে থাকে বলে ব্যবসায়ী  দুলাল হাওলাদার জানান। 

এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় চাঁই তেমন বিক্রি হচ্ছে না। বানানো কয়েক হাজার চাঁই অবিক্রিত থাকার আশংকা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: হাটহাজারীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক আটক

এনজিও এবং মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ এনে তারা বাঁশ সহ চাঁই বানানোর উপকরণ কিনেছেন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও বিনা সুদে ঋণ পেলে তারা ভালোভাবে চাঁই ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার নির্বাহ করতে পারতেন বলে জানিয়েছেন চাঁই ব্যবসায়ী মনোয়ারা বেগম।

ইত্তেফাক/নূহু