হারমানপ্রীতের কঠোর শাস্তি দাবি বিশ্বকাপজয়ী মদন লালের

বাংলাদেশের নারী দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারতের নারী দলের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের বাজে আচরণ নিয়ে একদমই চুপ ভারতীয় গণমাধ্যম। নিজ দেশের ক্রিকেটার বলেই কি না, ভারতের গণমাধ্যম হারমানপ্রীতের আচরণ নিয়ে কোনোরকম প্রশ্নই তোলেনি। উল্টো বাংলাদেশকেই কাঠগড়ায় তুলে সংবাদ করেছে।

তবে গণমাধ্যম নীরব থাকলেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা। ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম তারকা মদন লাল তো বিসিসিআইয়ের কাছে হারমানপ্রীতের কঠোর শাস্তিই দাবি করলেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, হারমানপ্রীত যে জঘন্য আচরণ করেছে, তাতে বিসিসিআইয়ের অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো, ভারতীয় ক্রিকেট (বিসিসিআই) কি তাদের দেশেরই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মদন লালের আবেদনে সাড়া দিয়ে হারমানপ্রীতকে শাস্তি দেবে? বিসিসিআই মদন লালের দাবির মর্যাদা রাখবে কি না, তারাই জানে। তবে হারমানপ্রীত যে জঘন্য আচরণ করেছেন, তাতে কঠোর শাস্তিই তার প্রাপ্য।

গত শনিবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে আউট হওয়ার পর আম্পায়ারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যাট দিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেন হারমানপ্রীত। মাঠ ছাড়ার সময় আম্পায়ার তানভীরের দিকে চোখ রাঙান তিনি। এরপর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সৌজন্যতার সীমা পেরিয়ে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্কিত সব মন্তব্য করেন হারমানপ্রীত। ভারতের নারী দলের অধিনায়ক তীর ছোড়েন বাংলাদেশের নারী দলের দিকেও। 

সেদিন শেষ ম্যাচটিতে নাটকীয় ড্র হওয়ায় তিন ম্যাচের সিরিজটি ১-১ ড্র হয়। ফলে সিরিজের ট্রফি দুই দলের অধিনায়কের হাতেই তুলে দেওয়া হয়। তো ট্রফি নিয়ে ছবি তোলার সময় হারমানপ্রীত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে উদ্দেশ্য করে তির্যক মন্তব্য করেন, ‘শুধু তোমরা কেন, আম্পায়ার তোমাদের ম্যাচ টাই করিয়ে দিয়েছে। আম্পায়ারকেও ডাকো। একসঙ্গে ছবি তুলি।’

হারমানপ্রীতের এমন আচরণে ভারতের গণমাধ্যম চুপ থাকলেও মদন লাল ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেননি। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার টুইট বার্তায় কড়া সমালোচনা করেছেন হারমানপ্রীতের। তার আচরণকে, ‘জঘন্য’, ‘পীড়াদায়ক’ আখ্যায়িত করে মদন লাল বিসিবিআইয়ের প্রতি দাবি জানিয়েছেন কঠোর শাস্তি দেওয়ার। টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েদের বিপক্ষে হারমানপ্রীতের আচরণ ছিল পীড়াদায়ক। হারমানপ্রীত খেলার চেয়ে বড় নয়।  সে ভারতের ক্রিকেটের জন্য দুর্নাম বয়ে এনেছে। বিসিসিআইয়ের অবশ্যই ওর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

শুধু মদন লাল নন, ভারতের নারী দলের সাবেক অধিনায়ক আনজুম চোপড়াও হারমানপ্রীতের আচরণের সমালোচনা করেছেন। দেশের হয়ে ১৫৭টি ম্যাচ খেলা আনজুম বলেছেন, ‘রাগ কমার পর ও যখন শান্ত হবে, আমি নিশ্চিত সে নিজেই বুঝতে পারবে, অসন্তুষ্টি প্রকাশে ওর আরো সচেতন হওয়া দরকার। অসন্তুষ্টি প্রকাশে ক্ষতি নেই। কিন্তু কখন ও কীভাবে তা দেখাতে হবে, সেটা দেখতে হবে। শব্দ চয়নেও ওর আরো যত্নশীল হওয়া উচিত।’