ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অফিস অডিটরকে বদলির সুপারিশ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক শিক্ষিকার ফাইল আটকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত অডিট অফিসার আশরাফ হোসেনকে বদলির সুপারিশ করা হয়।

সোমবার (২৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুদক সমন্বিত মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, একমাস যাবৎ ভেদরগঞ্জে কর্মরত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার এলপিসির কাগজপত্র আটকে রেখে ঘুষ দাবি করে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস অডিটর আশরাফ হোসেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষিকা অভিযুক্ত আশরাফ হোসেনকে বিকাশে দুই দফায় ১ হাজার ও নগদ ১ হাজার টাকা করে মোট ২ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অভিযান চালায় দুদক। পরে আশরাফ হোসেনের মোবাইলে বিকাশ অ্যাকাউন্টের অ্যাপে ১ হাজার টাকার অসংখ্য লেনদেনের প্রমাণ পায়। এ সময় অভিযুক্ত আশরাফ হোসেন শিক্ষিকার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (মাদারীপুর) সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, এক ব্যাংক কর্মকর্তার অভিযোগ ছিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস অডিটর আশরাফ হোসেন তার স্ত্রীর ফাইল আটকে রেখে ঘুষ নিয়েছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় ঘুষের বিষয়ে অভিযুক্ত আশরাফ হোসেন নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে- তিনি ঘুষ নিয়েছেন। পরে এ ধরনের অপরাধ তিনি আর করবেন না সেই শর্তে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে বিভাগীয় বদলির সুপারিশের জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও আমাদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।