ভারতের নয়াদিল্লিতে কর্মরত একজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। পরিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারী। আবদুল ওয়াদুদ আকন্দ নামে ওই কর্মকর্তা (পররাষ্ট্র সার্ভিসের ২৯ ব্যাচ) দিল্লি মিশনে কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ ওয়াদুদ তার স্ত্রীর কাছে ঢাকার আফতাবনগরে একটি ৫ কাঠার একটি প্লট চেয়েছেন। পাশাপাশি নগদ আরও ৪০ লাখ টাকাও দাবি করেছেন বলে অভিযোগ স্ত্রীর।
ওই নারীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল পারিবারিকভাবে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে আবদুল ওয়াদুদ আকন্দের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বিয়ের সময় ওয়াদুদের পোস্টিং ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভা মিশনে। সেখানে যাওয়ার পরও যৌতুকের বিষয়টি সামনে আসে। ওয়াদুদ ও তার মা যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। ওই নারীর বাবা একজন অতিরিক্ত সচিব। কয়েকমাস পর গর্ভবতী হয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশেই সন্তানের জন্ম হলেও কোন খোঁজ নেননি ওয়াদুদ। এক পর্যায়ে সবকিছু মেনে নেন তিনি। এর মধ্যে ওয়াদুদের পোস্টিং হয় দিল্লিতে। সেখানে স্ত্রীকে নিয়ে যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর ওয়াদুদ ও তার মা আফতাব নগরে ৫ কাঠার একটি প্লটের জন্য চাপ দিতে থাকেন। একই সঙ্গে নগদ ৪০ লাখ টাকাও দাবি করেন। এ নিয়ে নির্যাতন বাড়তে থাকায় টিকতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর ওই নারী জানতে পারেন ওয়াদুদ ময়মনসিংহ শহরের নওমহল এলাকার একজন আইনজীবীর মেয়েকে আগে বিয়ে করেছিলেন। ফ্যামিলি স্ট্যাটাস ও যৌতুক না পাওয়ায় নির্যাতন করে তাকেও ছেড়ে দেন। প্রায় দেড় বছরের সংসার জীবনে স্ত্রীকে কোন ধরনের ভরণপোষণ দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারাও। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল ওয়াদুদ আকন্দ ইত্তেফাককে বলেন, ‘যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা অসত্য। আসলে আমাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। বিষয়টা আমার পারিবারিক।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘ওয়াদুদ জেনেভা থাকতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছিল। দিল্লিতে তার এসব কর্মকাণ্ড আরও বেড়েছে। অভিযোগকারী নারীর বাবা একজন অতিরিক্ত সচিব। তিনি দিল্লি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়েছেন। তার স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ পরীক্ষা করে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। পররাষ্ট্র সার্ভিসে এ ধরনের অভিযোগ ও অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না।’