চলে গেলেন ক্রীড়া সংগঠক রফিকুল ইসলাম টিপু

প্রচারমাধ্যমে কখনোই ছিলেন না রফিকুল ইসলাম টিপু। সাধারণ মানুষের কাছে খুব একটা পরিচিতও ছিল না তার। ক্রীড়াঙ্গনের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন টিপু। সাদামাটা চলাফেরা হলেও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে তার উঠাবসা ছিল নিয়মিত। বিশেষ করে প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক বিওএর মহাসচিব জাফর ইমামের খুব কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। সারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের যাওয়া-আসা ছিল জাফর ইমামের কাছে, সেই সুবাদে রফিকুল ইসলাম টিপুও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রীড়া সংগঠকদের কাছেও খুব প্রিয় একজন ব্যক্তি হয়ে উঠে ছিলেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল সেই মানুষটি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) দুপুরেই রফিকুল ইসলাম টিপুর (৬৫) মৃত্যুর খবরটি মুখে মুখে ক্রীড়াঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। সবার মনটা মুহূর্তেই অন্ধকার করে দেয় টিপুর আচমকা চলে যাওয়া (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। 

রেখে গেছেন মা, চার ভাই, দুই বোন, স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান। টিপুর নিজ বাসা ঢাকার সায়েদাবাদের স্বামীবাগে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে বাসায় ফেরার সময় প্রতিরাতে তিনি ইত্তেফাক অফিসে খেলাধুলা বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক প্রিয় মানুষ কাশীনাথ বসাকের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। গল্প করতেন। চা খেতেন। সেই সূত্রে ইত্তেফাকের অন্যদের সঙ্গেও পরোপকারী টিপুর সখ্য গড়ে উঠেছিল। 

হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনূরের ফোনে টিপুর মৃত্যুর খবর শুনে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর টিভির ক্রীড়া সম্পাদক দিলু খন্দকার নির্বাক হয়ে যান। টিপুর মৃত্যু মানতে পারছেন না কাছের মানুষ কাশীনাথ বসাক। তার ছুটির দিনে দুই জনের আড্ডা ছিল বিএসজেএর অফিসে। বাসায় থাকলে টিপু সারাক্ষণ কাজে ব্যস্ত থাকতেন। প্রতিদিনের মতো পরশু দিন সোমবার বাসায় কিছু একটা করতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে মাথায় আঘাত পান। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। সেই যে যাওয়া, আর ফেরা হলো না। মাথায় আঘাতের খবরের আগেই মৃত্যুর খবর পৌঁছে ক্রীড়াঙ্গনকে শোকাহত করে দিল।

গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকায় টিপু এলেন স্বজনদের কাঁধে ভর করে। শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে জানাজার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তা, সাবেক খেলোয়াড়, কোচ  ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের মুখগুলো যেন স্তব্ধ, ভাষাহীন চোখ। কেউ বললেন আমার সঙ্গে কথা বলে বাসায় গেলেন।

কেউ বললেন, সেদিনও আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে-এসব নানা স্মৃতিচারণ এক মুখ থেকে নানা মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল। তার সবাই শেষবার টিপুর মুখটা দেখে নিচ্ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে দুই মেয়াদে টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টিপু। আর বর্তমানে আরচ্যারি ফেডারেশনের সদস্য ছিলেন তিনি।

৯০-এর আগে বিকেএসপির ইনডোরে আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টের মিডিয়া বিভাগে খুব দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সেই থেকে মিডিয়ার এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজে টিপুর বিকল্প ছিল না। দেশি কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হলে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হতো। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বিওএর সভাপতি জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, সব সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ। শোক জানিয়েছে বাফুফে, আরচ্যারি, হ্যান্ডবল, টেবিল টেনিস, বিএসপিএ, বিএসজেএসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন। শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে প্রথম নামাজে জানাজার পর বাদ এশা স্বামীবাগ জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।