পল্লবীর আদর্শ নগরে পুলিশের ‘মাদকবিরোধী অভিযানের’ মধ্যে মারা যাওয়া তরুণী বৈশাখীর পরিবার ও স্বজনদের চাপে রেখেছে পল্লবী থানা পুলিশ। এ মৃত্যুর ঘটনায় বৈশাখীর বাবা থানার দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও তা নিতে রাজি হয়নি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো ঝামেলা না করে সে কারণে পুলিশ পরিবারটিকে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য বৈশাখীর পরিবার ও স্বজনরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
বৈশাখীর স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার রাতে বৈশাখী আক্তারকে দাফনের পর তার বাবা ইমতিয়াজ মিয়া পল্লবী থানায় যায় ঐ থানার দুই এসআই জহির ও ফেরদৌসের বিরুদ্ধে মামলা করতে। এসআই জহির এর আগেও বৈশাখী, তার খালা-মামাসহ স্বজনদের নামে একাধিক মামলা করিয়েছে। থানায় ধরে নিয়েও নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পরিবারটির। তাই এবার এসআই জহিরকে কোনোভাবেই ছাড় না দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় বৈশাখীর বাবা। থানায় মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করবে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
বৈশাখীর মামা সুমন জানান, বৈশাখীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা ইমতিয়াজ মিয়া পল্লবী থানায় এসআই জহির ও ফেরদৌসের বিরুদ্ধে মামলা করতে যায়। থানায় মামলা নিতে রাজি হয়নি। তারা বলেছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঐ মামলাই তদন্ত করা হবে। যদি দুই পুলিশের দোষ পাওয়া যায় তাদের শাস্তি হবে, না পাওয়া গেলে কিছুই হবে না। তিনি বলেন, থানায় যদি মামলা করতে না পারি, তাহলে আদালতে মামলা করবে।
সুমন আরও বলেন, ‘বৈশাখী যখন বলেছে, আমার মাকে গ্রেফতার করলে আমি ফাঁসি দিমু। তখন জহির দারোগা বলেছে, যা তুই ফাঁসি দিয়ে মর, এরপর জহির দারোগা নিজেই ওড়না এনে বৈশাখীর দিকে ছুড়ে দেয়। বৈশাখীকে খালি রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে দিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দেয় জহির দারোগা। তারা কিছু ভিডিও দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে বৈশাখীদের বাসা থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ বলে বৈশাখী নাকি নাটক করে ফাঁসি দিয়েছে—পুলিশের ডিসি কীভাবে এমন কথা কইতে পারে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে পল্লবীর কালশী আদর্শ নগর ১১ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের অভিযানে গেলে ঐ বাসার কিশোরী বৈশাখী বেগম পুলিশের উপস্থিতিতে আত্মহত্যা করেছে।