‘প্রতিপক্ষ ফাঁসানো’র আগুনে দগ্ধ তরুণীর মৃত্যু

‘প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে’ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ তরুণী ফুলন রানী বর্মণ মারা গেছেন।  বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

নরসিংদী পৌর এলাকা বীরপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ফুলন রানী বর্মণ। গত বছর এইচএসসি পাস করেন। পরিবারের আর্থিক অসঙ্গতির কারণে আর কোথাও ভর্তি হতে পারেননি তিনি। তার বাবার নাম যুগেন্দ্র বর্মণ। 

নিহত তরুণীর পরিবার জানায়, ১৩ জুন রাতে দোকানে কেক কিনতে গিয়েছিলেন ফুলন। কেক কিনে ফেরার সময় বাড়ির কাছে কয়েকজন যুবক তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে কেরোসিন ঢেলে ফুলনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তার চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন গিয়ে উদ্ধার করে। সেই রাতেই ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় ফুলনকে। 

আরো পড়ুন: চাকরির জন্য ঘুরতে ঘুরতে বয়স শেষ, অনশনে মাস্টার্স পাস প্রতিবন্ধী

এ ঘটনায় পুলিশ ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষ এবং রাজু সূত্রধর, সঞ্জীব ও আনন্দ বর্মণকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার নরসিংদীর বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দের রাজু সূত্রধর।

তিনি জবানবন্দিতে জানান, ফুলনের বাবার সঙ্গে প্রতিবেশী সুখলাল ও হীরালালের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য রাজু ও আনন্দকে নিয়ে ফুলনের গায়ে আগুন দেওয়া হয়। 

ঢাকা কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, হাসপাতালে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন ফুলন রানী বর্মণ। সকালে তিনি মারা যান। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ