কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা থেকে হলুদ ট্যাক্সিতে গেলে পাঁচ মিনিটে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে পৌঁছানো যায়। রাস্তার এপার-ওপার ইডেন গার্ডেন এবং ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের অবস্থান। এখানেই একাধিক ফুটবল মাঠ। মোহন বাগান, মোহামেডান, ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব, এরিয়েন ক্লাবসহ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে আরো একাধিক ক্লাব।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দেয়াল ঘেঁষে মোহামেডান, বিআরটিসি ক্লাব, ভিক্টোরিয়া, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ওয়ারী ক্লাব, একতলা গ্যালারির হকি স্টেডিয়াম, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে যেটি ক্লাব পাড়া ছিল। ঠিক সেরকমই ক্লাব পাড়া হচ্ছে কলকাতার গড়ের মাঠে। গড়ের মাঠের রাস্তা ধরে ঢুকতে চোখে পড়ল গেট সাজানোর কাজে ব্যস্ততা।
১ আগস্ট ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই আয়োজনকে ঘিরে লাল হলুদ কর্তাদের যেন ফুসরত নেই। আশুরার দিনে সরকারি ছুটিতে কাজ করছেন তারা।
মঙ্গলবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বিকেলে অনুষ্ঠান। সব জায়গায় খবর পৌঁছাল কিনা তা নিয়ে কর্মকর্তাদের ফোন ব্যস্ত। এরই মধ্যে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব কর্মকর্তারা তাদের নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে এবার ১৬ জনকে সম্মাননা দিতে যাচ্ছে এই ক্লাব। ৬ জন বাংলাদেশের। শেখ মো. আসলাম, প্রয়াত ফুটবলার মোনেম মুন্না, রুমি রিজভি করিম, গোলাম গাউস, আবাহনীর হারুনুর রশিদ সংগীত শিল্পী মেহরিন মাহমুদ। আর ভারতীয়দের মধ্যে ভারতের গৌরব রতন টাটা ছাড়াও সাংবাদিক প্রদীপ রায় ও অরুণ সেন, রেফারি মেহবুব হোসেন, রেফারি অরুনাভ দাস, সাবেক ক্রিকেটার অরুপ ভট্টাচার্য, সাবেক গোলরক্ষক তরুন বোস।
মুন্না মারা গেছেন তার জন্য আত্মজন স্মৃতি সম্মান আর যারা বেঁচে আছেন জন্য আত্মজন প্রীতি সম্মাননা। সহকারী সাধারণ সম্পাদক রূপক সাহা বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে যারা খেলেছেন তারা আমাদের কাছে আত্মজন। এ কারণে আমরা এপার বাংলা ওপার বাংলার না বলে এটাকে অপারবাংলা বলতে চেয়েছি। আমরা এক ভাষায় কথা বলি। এক রকম পোশাক পরি। এক রকম খাদ্যাভাস। তাহলে কেন দুই বাঙলার মধ্যে কাটা তার আছে, বেড়াজাল আছে। কেন আপনাকে-আমাকে আলাদা করে রাখবে। রাজনৈতিক বেড়াজাল থাকে থাকুক। আমাদের মধ্যে ভাবধারায় চিন্তাধারায় আমরা যেন এক জায়গায় থাকি।’
এই কর্মকর্তা বলেছেন, ৯১ সালে আমরা চেয়েছিলাম ইস্ট বেঙ্গলের খেলোয়াড়রা আবাহনীতে খেলবে। আবাহনীর ফুটবলাররা ইস্ট বেঙ্গলে খেলবে। এটাই শুরু করেছিলেন আবাহনীর হারুন ভাই এবং আমাদের পল্টু দা (দিপক দাস, ডাক নাম পল্টু)। আসলাম-মুন্নারা কীভাবে দুই বাঙলার ফুটবলকে এক করে ফেলেছিলেন।’
১৯৯১ সালে লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের জার্সি গায়ে যারা খেলেছেন তাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রুমি, মুন্না, আসলাম, গাউসরা যখন খেলেছেন তখন অধিনায়ক ছিলেন বিকাশ পাজি। মুন্না, রুমি, গাউস, আসলামদের সঙ্গে যারা খেলেছেন সেই ফুটবলাররা আসবেন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে। তাদের সবার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার আয়োজন করেছে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব।
দেবাশিষ রায় বললেন, ‘সেই সময়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে মিলনমেলা তৈরি করা হচ্ছে। যেন সবাই নিজেদের মধ্যে আবার নতুন করে বন্ধন তৈরি করতে পারে। আবার যেন খেলোয়াড়রা পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যেতে পারেন। আমাদের ভারতীয় সেই ফুটবলারদের সঙ্গে আসলাম, গাউস, মুন্নার পরিবার যোগ দেবেন। আর বাংলাদেশ থেকে এবারই প্রথম কোনো সংগীত শিল্পীকে আত্মজন প্রীতি সম্মাননা দেওয়া হয়েছে মেহেরিনকে। রুমি কানাডায়, তার পক্ষে প্রতিনিধি আসবে। রতন টাটা থাকতে পারছেন না। তাকে পুরস্কার দিয়ে আসা হবে।’