ম্যানুয়েলা ভ্যানেগাসের ৯৭তম মিনিটের দর্শনীয় হেডের একটি গোলই স্তব্ধ করে দিয়েছে জার্মানিকে। গতকাল রোববার (৩০ জুলাই) অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে শেষ মুহুর্তের গোলটি ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় এক জয় এনে দিয়েছে কলম্বিয়াকে। এই জয়ে শেষ ষোলোর পথে এগিয়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পরিশোধ করে অধিনায়ক আলেক্সান্দ্রা পোপ জার্মানদের এক পয়েন্ট পাইয়ে দিতেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু আসল নাটকীয়তা তখনো বাকিই। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে জার্মান পোস্টের একেবারে সামনে থেকে দুর্দান্ত এক হেডে কলম্বিয়দের পূর্ণ তিন পয়েন্টই এনে দেন ভ্যানেগাস।
এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে ৪০ হাজার দর্শকের সামনে ম্যাচটি জমিয়ে দেন কলম্বিয়ার লিন্ডা কেইসেডো। এই জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে কলম্বিয়া। অপরদিকে জার্মানি ও মরক্কোর সংগ্রহ তিন পয়েন্ট করে। গ্রুপের আরেক দল দক্ষিণ কোরিয়া এখনো কোন পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি।
গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে জার্মানির মোকাবেলা করবে কোরিয়ানরা। আর কলম্বিয়া লড়বে মরক্কোর বিপক্ষে। সিডনি ফুটবল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই দারুন উচ্ছসিত ছিল জার্মান সমর্থকরা। এই সময় দুই দলের সমর্থকরাই নেচে গেয়ে, বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। তবে বিপুল সংখ্যক জার্মান সমর্থকের তুলনায় কলম্বিয়ানদের সংখ্যা কম থাকায় চাপা পড়ে যায় তাদের উচ্ছাস।
যখনই জার্মানদের পায়ে বল এসেছে তখনই চিৎকার ও শিস দিয়ে তাদের সমর্থন জুগিয়েছে ভক্তরা। গোলের প্রথম সুযোগটিও পেয়েছিল জর্মানরা। কলম্বিয়া পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর থেকে লিনা ম্যাগুলের শটের বলটি লক্ষ্যভ্রস্ট হয়। বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহুর্তে আরো একটি গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জার্মানির ওই তারকা। ভলি করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও বেশ সপ্রতিভ ছিল ২০০৩ ও ২০০৭ সালের চ্যাম্পিয়ন জার্মানরা। এই সময় গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি।
তবে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে গোল করে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন কেইসেডো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জার্মান বক্সে বল নিয়ে ঢুকে দারুন দক্ষতায় গোল করলে এগিয়ে যায় লাতিন আমেরিকানরা। এরপর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠে জার্মানি। তবে সুযোগ এসেছে নির্ধারিত সময়ে শেষ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে অধিনায়কের শটে সমতায় ফেরার পরও হার এড়াতে পারেনি দুই বারের চ্যাম্পিয়নরা। ইনজুরি টাইমে ঠিকই গোল হজম করে হার মানতে হয় জার্মানদের।