ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে সহিংসতা সম্পর্কিত কয়েকটি পিটিশনের শুনানি করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। নারী নিগ্রহের ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ঘটনারও শুনানি হবে।
কেন্দ্র এবং মণিপুর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন নিগ্রহের শিকার দুই নারী। ভিডিওতে তাদেরকে বিবস্ত্র করে হাঁটাতে দেখা যায়। গত ৪ মে এ ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা ভারতের জাতীয় দৈনিকগুলোর শিরোনামে জায়গা করে নেয়। শুরু হয় তোলপাড়। পিটিশনে নারীরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং তাদের পরিচয় গোপন রাখার আবেদন করেছেন। প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এ ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া শুনবে। আরেকটি পিটিশন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেটিতে সুপ্রিম কোর্টকে মামলার বিচারকাজ মণিপুরের বাইরে অন্য রাজ্যে করা এবং ছয় মাসের মধ্যে তা শেষ করতে বলা হয়েছে। এ আবেদনেরও শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।
গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, এ মামলার তদন্ত সিবিআই-কে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সরকারিভাবে এ ঘটনার বিষয়ে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওটিতে ফাঁস হওয়া ঘটনার বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কেন্দ্র এবং মণিপুর সরকারকে তা আদালতে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ঘটনাটিকে ‘সাংবিধানিক অধিকার এবং মানবিকতার লঙ্ঘন’ বলেছিল শীর্ষ আদালত। এছাড়া, মণিপুরের সহিংসতা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল গত ২৮ জুলাই। তবে সেদিন বিচারপতি অসুস্থ থাকায় শুনানি স্থগিত করা হয়।
গত ৩ মে থেকেই জাতিগত সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ছিল মণিপুর। মেইতেই জনগোষ্ঠীর তফশিলি উপজাতিভুক্ত হওয়ার দাবির বিরোধিতায় মণিপুরের পার্বত্য এলাকায় হওয়া পদযাত্রা থেকেই সংঘর্ষ শুরু। তার পর থেকে জ্বলছে রাজ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কখনও কারফিউ জারি করে, কখনও ইন্টারনেট বন্ধ করেও সেখানে শান্তি ফেরাতে পারেনি প্রশাসন। ১৫০ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। বহু অধিবাসী আশ্রয়হীন হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই ভাইরাল হয় ভিডিও। তাতেই দেখা যায়, দুই নারীকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানো হচ্ছে। নির্যাতিতারা তখন রেহাই পাওয়ার আর্জি জানানোর পরও তাদের হেনস্তা করা হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তোলপাড় শুরু হয় ভারতজুড়ে। পরে জানা যায়, দুই নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণও করা হয়েছিল। ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীরা কুকি সম্প্রদায়ের। আর তাদের ঘিরে থাকা পুরুষরা মেইতি গোষ্ঠীর।