জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেয়াদোত্তীর্ণ সকল গণতান্ত্রিক পর্ষদের নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ ক্ষুণ্ণ করছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, সিনেট, সিন্ডিকেট ও শিক্ষা-পর্ষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক পর্ষদ প্রায় পাঁচ বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে নির্বাচনের বিষয়ে উপাচার্যকে একাধিকবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে ও বিবৃতির মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি শিক্ষক সমিতির নির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি ও ২০ মে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়াদোত্তীর্ণ গণতান্ত্রিক পর্ষদ সমূহের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি করলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
তিনি বলেন, সবশেষ গত ২৩ জুলাই উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়াদোত্তীর্ণ সকল পর্ষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে একদিকে উপাচার্য দায়িত্বে অবহেলা করছেন অন্যদিকে কাল ক্ষেপণের মাধ্যমে সহকর্মীগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত না করে বিভিন্ন বিভাগ, অফিস ও আবাসিক হলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ায় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন গণতন্ত্রহীনতা বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপাচার্য নির্বাচনের সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশকে সমুন্নত রাখার পাশাপাশি দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট হবেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক মো. সোহেল রানা, অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক বোরহান উদ্দীন প্রমুখ।