সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যেমন বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ডেঙ্গুর পরিস্থিতি বিবেচনায় জনগণকে সতর্ক-সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ইকবাল হোসেন অপু শরীয়তপুরে (পালং-জাজিরা) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে ইকবাল হোসেন অপু বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের সরকার ছিলো-আছে এবং থাকবে। দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমার এলাকায় যারাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের চিকিৎসার ভালোমন্দ খবরাখবর আমি নিচ্ছি। পাশাপাশি তাদের চিকিতাসায় প্রয়োজনীয় সকল কিছুর দায়িত্ব আমি নিয়েছি। শুধু তাই না, আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী সকলকে আমি কঠোরভাবে বলে দিয়েছি ডেঙ্গু রোগী কারও যেন চিকিৎসার অবহেলা না হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য আলাদা কক্ষ আছে। নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বছর বন্যা ও বৃষ্টি বেশি ছিল, যার কারণে মশা বেড়েছে। ডেঙ্গু রোগীও বেড়েছে। মশা নিধন করলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও কমে আসবে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২০০-এর মতো মানুষ মারা গেছেন এবং ৪০ থেকে ৪৫ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে, মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর ৫ নির্দেশনা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ায় সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়।
ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাগুলো আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতিলীগ, যুব মহিলা লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, জাতীয় শ্রমিকলীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর পাশাপাশি দলীয় সংসদ সদস্য ও সব জনপ্রতিনিধি, ওলামা-মাশায়েখসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
নির্দেশনাগুলো-
১. সবাইকে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
২. বাসাবাড়ি, ফ্ল্যাট, অফিস-আদালত, শিক্ষ প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টারসহ সব চিকিৎসাকেন্দ্র, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন প্রভৃতি জায়গার কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩. চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত রাখতে হবে।
৪. নিজে সচেতন থাকার পাশাপাশি শহর, গ্রামগঞ্জ, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
৫. সব এলাকায় মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে।