সমুদ্র অবগাহনের প্রদর্শনী ‘সমুদ্রে শিল্পের খোঁজ’

জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক মানসিক সমস্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এই বাক্যবন্ধ আতঙ্কের মধ্যে থেকে নতুন প্রজন্ম সমুদ্রের কথাই জানে না। সমুদ্রের তলে রয়েছে আলাদা জগত। সে জগতের আলাদা বাস্তুতন্ত্র। সমুদ্রের জগতের অনেক কিছুই রয়ে গেছে অনাবিষ্কৃত। সেই অদ্ভুত সুন্দর জগত নিয়ে জুনভার্ন হয়তো লিখতে পেরেছেন কল্পকাহিনী। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের কাছে এই অদ্ভুত জগতের কথাই তো জানা নেই।

বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সমুদ্র সচেতনতা বাড়াতে শিল্প প্রদর্শনী করছে চারু ও কারুশিল্প প্রতিষ্ঠান ‘মনসিজ ক্রাফট’। এই প্রদর্শনীর সহযোগিতায় রয়েছে প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ, বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর, বাংলাদেশ ম্যাচবক্স কালেক্টরস ক্লাব ও ফেব্রিক্রিল। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে ‘সমুদ্রে শিল্পের খোঁজ’ শিরোনামে এ প্রদর্শনী শুরু হয়, চলবে ৪ আগস্ট পর্যন্ত।

সমুদ্র

সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই প্রদর্শনী তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ যৌথভাবে তাদের বিভাগীয় সংগ্রহশালা থেকে মলাস্কা প্রাণীরাজ্যের ২৯টি শামুক ও ঝিনুক, ৫টি প্রবাল,  ৩১টি পাখির ট্যাক্সিডার্মি সরবরাহ করেছে। সংগ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ম্যাচবক্স কালেক্টরস ক্লাব। ১০ জন খুদে শিল্পীর মলাস্কার চিত্রকর্ম আলাদা ম্যাচবক্সে প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো স্যুভেনির হিসেবে সংগ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতাও বাড়াচ্ছে। শিল্পী সাদিয়া শারমিনের তত্ত্বাবধানে ৪৭ জন শিল্পীর মাসব্যাপী কর্মশালার মধ্য দিয়ে ১০টি ক্র্যাফট, ১০টি ম্যাচবক্স, পরিধানযোগ্য শিল্পের ৭টি পেইন্টিং, ৫৯টি সুপারি প্লেট পেইন্টিং, ৬৫টি সিডি পেইন্টিং, ৭টি ক্যাপ পেইন্টিং ও ১৬টি সমুদ্র বিষয়ক পেইন্টিং এ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আখতার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক। অংশ নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির এক ঝাঁক তরুণ শিল্পী।    

সমুদ্র

সমুদ্র বিষয়ে জ্ঞান বাড়ানো জরুরি৷ এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে। মনসিজ ক্রাফটের কর্ণধার শিল্পী সাদিয়া শারমিন বলেন, 'শিশু-কিশোরদের মাঝে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান বাড়ানো এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এতে তারা সামুদ্রিক সম্পদের গুরুত্ব বুঝতে পারবে। সমুদ্রের প্রতি নির্বিচারে অসংলগ্ন আচরণ না করে নতুন প্রজন্ম সদাচরণ শিখবে। এটাই এই প্রদর্শনীর প্রতিটি আয়োজনে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'জাতিসংঘের প্রণয়ন অনুযায়ী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৪ নাম্বার হলো টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহার। এটি ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি নামে পরিচিত, সেই সুনীল অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে আমাদের এ প্রদর্শনী।' 

এছাড়া প্রদর্শনীতে কাজী আনোয়ার হোসেন আর্ট মিউজিয়ামের কিউরেটর মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, 'পৃথিবীর তিন ভাগের দুই ভাগ পানি। সমুদ্রের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা অনেকেরই অজানা রয়ে গেছে৷ সমুদ্রের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানানোর কোনো মাধ্যম আমাদের দেশে নেই। এই প্রদর্শনী মূলত মানুষকে সমুদ্রের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানাতে চায়। সমুদ্র আমাদের পাশেই রয়েছে। তাকে দূর থেকেও বোঝার, জানার ও উপভোগ করার সুযোগ মানুষ এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে পাবে। বুঝতে পারবে, সমুদ্র কেমন। আগ্রহ বাড়বে।'