নলছিটি খাদ্য গুদামে দুদকের সিলগালা

গুদাম কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগে ঝালকাঠির নলছিটি খাদ্য গুদামে অভিযান চালিয়ে ২ নম্বর গুদাম সিলগালা করে দিয়েছে দুদক। বুধবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুদকের সমন্বিত কার্যালয় পিরোজপুরের উপ-পরিচালক ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে এ গুদামে সিলগালা করে দেন। 

জানা গেছে, বোরো মৌসুমেএ খাদ্য গুদামে দুই হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এর মধ্যে ১৬০ মেট্রিক টন আমন মৌসুমের চাল অবৈধভাবে সংরক্ষণ করেছেন খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। আমন মৌসুমের সময় এ গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চাল কম দামে অবৈধভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০  টাকা কেজি দরে কিনে রেখে বোরো মৌসুমে ৪৪ টাকা দরে কেনা চালের সঙ্গে রেখে দেন নলছিটি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম। এতে ১৬০ মেট্রিক টন চালে (৫ হাজার ৫৩৩ বস্তা) প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন এ গুদাম কর্মকর্তা। 

খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিধি মোতাবেক বোরো মৌসুমে আমন মৌসুমের কোনো চাল এ খাদ্য গুদামে থাকার কথা নয়। স্থানীয়দের কাছথেকে অভিযোগ পেয়ে দুদকের সমন্বিত কার্যালয় পিরোজপুরের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলার নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নলছিটি খাদ্য গুদামে অভিযান চালায়। এদিন প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আমন মৌসুমের বেশ কয়েক বস্তা চাল এ খাদ্য গুদামে পায় দুদক। খবর পেয়ে ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হোসাইন খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে আসেন। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করে দুদকের উপ-পরিচালক ঝালকাঠি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে ২ নম্বর গুদামে সিলগালা করে দেন। বৃহস্পতিবার ফের গুদামের সমস্ত চাল যাচাই বাছাই করা হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নলছিটি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
 
অভিযান পরিচলনাকারী দুদকের সমন্বিত কার্যালয় পিরোজপুরের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা জানান, এ ব্যাপারে এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না। যেহেতু গুদামের সমস্ত চাল যাচাই বাছাই করতে আরও সময় লাগবে। আপাতত আমরা গুদাম সিলগালা করে দিয়ে বৃহস্পতিবার ফের কাজ শুরু করবো। তবে অভিযানকালে এ গুদামে আমন মৌসুমের বেশ কয়েক বস্তা চাল পাওয়া গেছে। এতে অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।