জুলাইয়ে রিজার্ভ থেকে ১১৪ কোটি ডলার বিক্রি

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রিজার্ভ থেকে ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন বা ১১৪ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এটি জানা যায়।

মঙ্গলবার বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির দর ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঐ দিন ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এত দিন দর ছিল ১০৯ টাকা।

dollar

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সব ব্যাংক এই দরে ডলার পাচ্ছে না। সরকারের প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্য ব্যাংকগুলোকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার কিনে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ৬৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়াল ২৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৯ টাকা, সর্বনিম্নও ১০৯ টাকা। সব ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সঞ্চিত রিজার্ভ আরও কমে যাবে। সে জন্য সরকারের প্রয়োজনেই শুধু রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়া হচ্ছে।

Dollars

আন্তব্যাংক ও গ্রাহক পর্যায়ে সব ব্যাংকই বর্তমানে ভাসমান বিনিময় দর অনুসরণ করছে। তবে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে নিজেদের নির্ধারিত আলাদা দর অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাকে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সেলিং রেট’। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করত, সেটিকে ‘ইন্টার ব্যাংক এক্সচেঞ্জ রেট’ বা আন্তঃব্যাংক লেনদেনের হার নামে অভিহিত করা হতো। ব্যাংকগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দরে ডলার বিক্রি করত, তখন সেই দরকেই ডলার রেট ধরা হতো। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ডলারের দর নির্ধারণ করছে। বর্তমানে রেমিট্যান্স ১০৯ টাকা, রপ্তানি বিল নগদায়ন ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা এবং আমদানি নগদায়ন হয় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বিল নগদায়নের গড় করে এক টাকা স্প্রেড করে।

গত সোমবার এবিবি-বাফেদা সভায় ডলারের নতুন দর করা হয়। প্রতি ডলার রেমিট্যান্স ১০৯ টাকা এবং রপ্তানি পরিশোধের বিল ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। আর বাফেদা-এবিবির এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক এক দিন পর মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার সেলিং রেট বাড়াল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি প্রধান কারণে দ্রুতহারে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এর মধ্যে একটি হলো রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির চাপ কমানো। আরেকটি কারণ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি ইউনিফায়েড এক্সচেঞ্জ রেট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য।