বিদেশিদের ওপর ভর করে বিএনপি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা।
গতকাল বুধবার রাজধানীর শাহবাগ জাদুঘরের সামনে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ১৪ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে-ছাত্র-যুবক-জনতার ঐক্য গড়ে তুলে আগামীতেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, ১৪ দলের জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নামে, নির্বাচনের নামে বিভিন্ন ধুয়া তুলে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমরা চাই এ দেশে সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অসাংবিধানিক ধারা চলবে না। তিনি বলেন, ছাত্র যুবক জনতাসহ সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে যেমন বিগত নির্বাচনগুলোতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। একইভাবে আগামী দিনেও সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। একযোগে ৬৪ জেলায় বোমা হামলা করা হয়েছিল। সেই আগস্ট মাস আবার ফিরে এসেছে। ২০১৩ সালে যখন সারা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছিল, তখন বিএনপির-জামায়াত নির্বাচন বানচালের নামে আগুন-সন্ত্রাস করেছিল। তখন তারা এক জন দুই জন নয়, অন্তত দেড় শ মানুষকে মেরেছিল, পুড়িয়েছিল। সেই আলামত আবার আমরা আগস্ট মাসে দেখতে পাচ্ছি। তারা এখন জনগণকে জিম্মি করে ক্ষমতায় যেতে চায়। আজকে তাদের প্রভু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মঙ্গলবার দেখলাম মার্কিন রাষ্ট্রদূত নির্বাচন কমিশনে গেলেন এবং সেখানে জবাবদিহিতা দাবি করছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা সীমালঙ্ঘন করছেন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।’
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা জানি, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যাদের বন্ধু তাদের শত্রুর অভাব হয় না। সেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ওপর ভর করেছে বিএনপি। তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আমার দেশকে নস্যাত্ করতে চাচ্ছে। আমরা আজকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সারা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে না, আরও শক্তি আছে।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপি বলেন, বিএনপি জামায়াত বাংলাদেশের শত্রু। স্বাধীনতাকে ধ্বংস করার জন্য তাদের সকল অপকর্ম। তাই ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দিনের লড়াইয়ে শামিল হতে হবে এবং বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানকেও রক্ষা করতে হবে।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, যখন বাংলাদেশ উন্নত ও পরিণত ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বিভিন্ন অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে আজো তাদের ষড়যন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তারা এ দেশে আবার গুম খুনের রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা অগ্রজদের সঙ্গে রয়েছি। যে কোনো মূল্যে বিএনপি-জামায়াতের এই অপশক্তির নীল নকশা আমরা প্রতিহত করব।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এমপি, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণ আজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে সিকদার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ফারুক, জাতীয়-জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি রুহুল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেণু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কে এম মজিবুর রহমান মজনু, এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, আলী আব্দুল্লাহ টিংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আলম প্রমুখ। দুপুর সাড়ে ৩টার পর থেকে ১৪ দলীয় জোটের দলগুলো খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে। আর সমাবেশের মঞ্চ বানানো হয় ট্রাকের ওপরে। মঞ্চের সামনের খোলা জায়গায় অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।