ডা. মনিরুজ্জামান খানের চিকিৎসা সেবায় খুশি শিবচর ডায়াবেটিক সমিতিতে আসা রোগীরা 

লিটন চৌধুরী স্কয়ার শিবচর ডায়াবেটিক সমিতি (শিডাস) মাসের প্রথম ও তৃতীয় মঙ্গলবার বাত-ব্যথা ও আথ্রাইটিস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান এমবিবিএস, এফসিপিএস এর চিকিৎসা সেবায় মুগ্ধ রোগীরা। রোগীরা জানান, তিনি অধিক সময় নিয়ে যত্নসহকারে রোগী দেখেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের আদেশক্রমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। 

১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপউপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান।

প্রসঙ্গত: অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় ১৯৬৪ সালের ১লা ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা মরহুমা আঞ্জুমান আরা বেগম এবং পিতা মরহুম আব্দুল মজিদ খান।

তিনি ১৯৭৯ সালে শিবচর নন্দকুমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮১ সালে বরহামগঞ্জ সরকারী কলেজ, শিবচর থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন এবং ১৯৯৭ সালে তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে তার অর্ধশত গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা রয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের নির্বাহী সভাপতি। বর্তমানে তিনি ক্যান্সার মিশন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮৫-৮৬ সালে বরিশাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান নবম বিসিএস এর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউয়ে চাকরি শুরু হয় তার। বর্তমানে তিনি গ্রেড-১ প্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যক্তিজীবনে অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার সহধর্মিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। ছেলে জাওয়াদ মাহরুজ খান যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় জর্জিয়া টেক ইনস্টিটিউটে বায়োইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এমএসসিতে অধ্যয়নরত। মেয়ে মাহিরা জেহরীন খান রাজধানী ঢাকার স্কলাস্টিকায় ইংলিশ মিডিয়ামে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। 

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫টি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ২২শ ডায়াবেটিকস ও চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে ডায়াবেটিকস, ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়, ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়। 

এ ছাড়াও স্থানীয় রোগীদের ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য পল্লি চিকিৎসক ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিনামূল্যে গ্লোকুমিটার বিতরণ করা হয়।